AkramNadwi

শিরোনাম : লেসবিয়ান প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক। —

শিরোনাম : লেসবিয়ান প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক। ——————– بسم الله الرحمن الرحيم. | প্রশ্ন: ড. ফারহাত হাশিমি, প্রখ্যাত শিক্ষিকা ও দাঈয়া, একজন বোনের পাঠানো প্রশ্ন শেয়ার করেছেন: আসসালামু আলাইকুম। আমি দুই সন্তানের (ছেলে ১৫ ও মেয়ে ৬ বছরের) একজন মা। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে আমি সরকারি হোস্টেলে থাকছি। গুরুতর কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর এখন কাজ করতে অক্ষম, আর স্থানান্তরিত হওয়ারও সামর্থ্য নেই। সম্প্রতি এক লেসবিয়ান দম্পতি আমার প্রতিবেশী হয়েছে। আমাদের একটি সাধারণ রান্নাঘর আছে। তাদের একজন আমাকে সালাম দিয়েছে এবং আশা করছে আমি যেন অন্য প্রতিবেশীদের মতো তাদের সঙ্গেও খাবার ভাগাভাগি করি। আমি বুঝতে পারছি না, তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করলে আমার ঈমান অটুট থাকবে। আমি কি তাদের সঙ্গে খাবার ভাগ করব? আমার মেয়ে কি তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলতে পারে? তারা সালাম দিলে আমি কি উত্তর দেব? তারা যদি বাসন বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ধার চায়, আমি কি দেব? তাদের প্রতি আমার মনোভাব কেমন হওয়া উচিত? দয়া করে আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আমার কষ্ট সহজ করে দিন এবং আমার অন্তর কুরআনের প্রতি উন্মুক্ত করে দিন। উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আপনার আন্তরিক প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। এ ধরনের বিষয়ে আমাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং দয়া দিয়ে এগোতে হবে, একই সঙ্গে মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। প্রথমত, কুরআন ও সুন্নাহ যেসব বিষয়কে স্পষ্টভাবে হারাম করেছে, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকা ফরজ। আমাদের ও আমাদের সন্তানদেরও ভালো-মন্দ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি। কিয়ামতের দিন আমরা আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করব, তাই ঈমান ও সন্তানদের ঈমান রক্ষা করাই সবার আগে। তবে একই সঙ্গে ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, মানুষ যে-ধরনের জীবনই যাপন করুক না কেন, সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে। সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো কুফর ও শিরক, কিন্তু এমনকি যারা এতে লিপ্ত, তাদের সঙ্গেও আমাদের সদয় ও ন্যায়সঙ্গত থাকতে বলা হয়েছে। সাহায্য করা, খাবার ভাগাভাগি করা—এসব নিজেই ইবাদত। গুনাহকে অপছন্দ করা মানে এই নয় যে, গুনাহে লিপ্ত মানুষকে ঘৃণা করতে হবে বা এড়িয়ে চলতে হবে। বরং সুন্দর আচার-আচরণের মাধ্যমে তাদের উপকারে আসাই একজন মুসলিমের চরিত্র। আপনার পরিস্থিতিতে প্রতিবেশীর সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করা ভালো, যেমন আপনি অন্যদের সঙ্গে করেন। এতে সুসম্পর্ক ও সৌহার্দ্য তৈরি হয়। তারা সালাম দিলে উত্তর দেওয়া উচিত, কারণ সালামের জবাব দেওয়া শান্তি ছড়িয়ে দেয় এবং মুসলিম চরিত্রের প্রকাশ। প্রয়োজনে বাসন বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ধার দেওয়া উদারতার কাজ, তবে এটি আপনার সামর্থ্য ও স্বস্তির ওপর নির্ভর করবে। সন্তানদের বিষয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন থাকা উচিত। ইসলাম শিশুদের কুরআনের শিক্ষা দেওয়া ও তাদের নিষ্পাপতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে। আপনার মেয়ে তাদের সন্তানের সঙ্গে খেললে, আপনি যেন তাকে সঠিক-ভুল বিষয়ে বুঝিয়ে দেন এবং তার ঈমান অটুট থাকে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সীমানা বজায় রেখে সম্মানজনক প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা মানে অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ নয়। বরং সদাচরণ ও উত্তম উদাহরণের মাধ্যমে তাদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, যেন তিনি আপনার কষ্ট দূর করেন, অন্তরগুলোকে কুরআনের জন্য উন্মুক্ত করেন এবং আপনাকে ধৈর্য ও প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহ আপনাকে ও আপনার পরিবারকে বরকত দিন, আপনার ঈমানকে দৃঢ় করুন এবং আপনার সব কাজ সহজতর করুন। আমীন। ———– ———- ক্যাটাগরি : ফাতওয়া, আখলাক, উপদেশ। — — ✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড ✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ — 🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇 https://t.me/DrAkramNadwi/6693
শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *