শিরোনাম : দত্তক নেওয়া শিশুকে স্তন্যদান ও রিদাআহ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা।
————-
| প্রশ্ন:
খ্যাতনামা শিক্ষিকা ও দাঈ ড. ফারহাত হাশিমি তার এক ছাত্রী থেকে পাওয়া প্রশ্নটি শেয়ার করেছেন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
প্রিয় উস্তাযাহ, আশা করি আপনি সুস্থ আছেন এবং ঈমানের সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছেন।
আমার একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানতে হবে, কারণ দত্তক সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন এসেছে।
যদি কোনো নারী সদ্যোজাত একটি শিশুকে দত্তক নেন এবং হরমোনের মাধ্যমে নিজের দুধ উৎপাদন করে শিশুকে স্তন্যপান করাতে সক্ষম হন, তবে তা কি শরিয়তে অনুমোদিত? এবং এতে কি রদাআহ (দুধের সম্পর্ক) প্রতিষ্ঠিত হবে?
| উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
নারীর জন্য কোনো শিশুকে স্তন্যদান করা বৈধ। এ স্তন্যপানের মাধ্যমে সেই শিশু তার দুধের ছেলে বা দুধের মেয়ে হয়ে যায়। এই বিধান প্রযোজ্য হয়, স্তন্যপান প্রাকৃতিকভাবে হোক বা চিকিৎসাগতভাবে দুধ উৎপাদন করিয়ে হোক—যেমন হরমোন ব্যবহার করে বা অন্য বৈধ চিকিৎসা-পদ্ধতির মাধ্যমে।
অতএব, যদি কোনো মহিলা সদ্যজাত শিশুকে দত্তক নেন এবং দুধ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেন শিশুকে খাওয়ানোর জন্য, তবে শরিয়াহ অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ। একবার যখন শিশু পর্যাপ্ত পরিমাণে তার দুধ পান করে—যেমনটি ফিকাহবিদরা নির্ধারণ করেছেন—তখন সেই শিশু রদাআহ সম্পর্ক অর্জন করবে, অর্থাৎ স্বীকৃত আইনি দুধের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হবে।
এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, দুধমা ও তার দুধের ছেলে বা দুধের মেয়ের মধ্যে বিবাহ নিষিদ্ধ হয়ে যায়। একইভাবে, সেই মহিলার অন্যান্য দুধপান করা সন্তানদের সাথেও বিবাহ নিষিদ্ধ হয়। তদুপরি এটি পর্দা, পারিবারিক সীমারেখা ও অন্যান্য সম্পর্কিত বিধানকেও প্রভাবিত করে, যেমনটি ইসলামি ফিকাহতে নির্ধারিত।
সারসংক্ষেপ:
প্রাকৃতিক উপায়ে বা চিকিৎসাগতভাবে দুধ উৎপাদন করিয়ে দত্তক শিশুকে স্তন্যদান করা শরিয়াহতে বৈধ। এবং শিশু যথেষ্ট দুধ পান করলে রদাআহ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, যা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অধিকার ও বিধানকে কার্যকর করে।
——————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকাহ,
—
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6742