শিরোনাম : অভিভাবকদের সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক।
——————–
بسم الله الرحمن الرحيم.
| প্রশ্ন:
প্রসিদ্ধ মহিলা শিক্ষিকা ও দাঈয়া ড. ফারহত হাশমির পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্ন এসেছে :
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আমেরিকায় বসবাসকালে একটি সুযোগ দেওয়া হয়, সেটি হলো—যদি কেউ কারো সেবা করে তবে সে PPL CDPAP (Home Nurse Services) এর মাধ্যমে বাড়িতে বসে উপার্জন করতে পারে।
আমার প্রশ্ন হলো—এটা কি বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করা ঠিক হবে এবং এ থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে তা পুরোপুরি বাবা-মাকে দিয়ে দেওয়া কি সঠিক হবে?
উদাহরণস্বরূপ, এক বিবাহিত কন্যার কাছে তার মা থাকেন, যাঁর কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। কন্যা আবেদন করে জানায় যে, আমি আমার মায়ের যত্ন করি, তাঁকে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টে নিয়ে যাই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করি। এর জন্য সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার হিসেব করে তাকে ঘণ্টাভিত্তিক পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। আর সেই কন্যা প্রাপ্ত সমস্ত অর্থ তাঁর মাকে দিয়ে দেন, যেন তিনি নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারেন।
প্রশ্ন হলো—এভাবে উপার্জিত অর্থ কি বাতিল ও অবৈধ উপার্জন গণ্য হবে?
জাযাকাল্লাহু খাইরান কাসিরা।
| উত্তর:
আপনার প্রশ্নে যে সুযোগের কথা উল্লেখ আছে (PPL CDPAP – Home Nurse Services)—এটি আমেরিকায় সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান দ্বারা চালু করা একটি ব্যবস্থা। এর উদ্দেশ্য হলো, যারা তাঁদের কোনো প্রবীণ, অসুস্থ বা অক্ষম আত্মীয়ের সেবা করে থাকেন, তাদেরকে সেই সেবার বিনিময়ে নিয়মিত পারিশ্রমিক দেওয়া।
এর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া আছে: আবেদন করা, যোগ্য সাব্যস্ত হওয়া, ডাক্তারের অনুমোদন পাওয়া, এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সেবা প্রদান করা।
যদি এই পারিশ্রমিক সম্পূর্ণরূপে আইনগত শর্ত পূরণ করে নেওয়া হয়, এবং এর মধ্যে কোনো প্রকার জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য বা প্রতারণা না থাকে, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে এ আয় বৈধ ও হালাল।
শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো:
الأصل في المعاملات الإباحة حتى يدل الدليل على التحريم
অর্থাৎ: লেনদেন ও পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মূলত হালাল ধরা হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এর হারাম হওয়ার নির্দেশ দেয়।
এ আয় আসলে এক ধরনের মজুরি (wage), যা সরকার বা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত সেবার বিনিময়ে প্রদান করে। ইসলামে মজুরির বৈধতার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
অর্থাৎ: সবচেয়ে অধিক হকদার জিনিস, যার বিনিময়ে তোমরা মজুরি গ্রহণ করবে, তা হলো আল্লাহর কিতাব (অর্থাৎ কুরআন শিক্ষা)।
যখন কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ বৈধ, তখন অন্য কোনো বৈধ বা উত্তম সেবার বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ তো আরো বেশি বৈধ হবে।
এই মজুরি সেই ব্যক্তির মালিকানায় আসে, যিনি সেবা প্রদান করেন—তিনি কন্যা হোন, পুত্র হোন কিংবা অন্য কেউ।
অতএব, শুধুমাত্র বাবা-মা হওয়ার কারণে এই পুরো অর্থ তাঁদেরকেই দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এটি কন্যারই শরীয়তসম্মত সম্পত্তি। তিনি চাইলে তাঁর নিজের প্রয়োজনেও ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি তিনি পুরোটা তাঁর মাকে দিয়ে দেন, তবে এটি হবে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার একটি সওয়াবের কাজ (সিলা-রেহমি)। তবে এমনটা করা তাঁর জন্য শরীয়তগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়।
——————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, পরামর্শ, শিক্ষা।
—
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6984