AkramNadwi

আমি বলি: মুহাদ্দিসগণ এ ধারণাকে নিজেদের শাস্ত্রে চি

আমি বলি: মুহাদ্দিসগণ এ ধারণাকে নিজেদের শাস্ত্রে চিনতেন না, এমনকি ফুকাহাও চিনতেন না। এটি একটি অনুপ্রবিষ্ট বিষয়, যার কোনো বাস্তব উপকারিতা নেই। তাদের সংজ্ঞা অনুযায়ী আসলে তাওয়াতুর হাদিস বলেই কিছু নেই। খতিব বাগদাদি প্রথম এ বিষয়ে বলেন। তিনি আল-কিফায়া-তে লেখেন:

“খবর দুই প্রকার: তাওয়াতুর ও আহাদ। তাওয়াতুর হলো এমন সংবাদ, যা এত মানুষের দ্বারা বর্ণিত যে প্রচলিত অভ্যাস অনুযায়ী তাদের মিথ্যা বলার সম্ভাবনা থাকে না, পরস্পর মিলেমিশে বানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না, এবং তাদের ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার সব প্ররোচনা ও বাধ্যবাধকতা অনুপস্থিত থাকে। এমন সংবাদ অবশ্যই সত্য বলে গ্রহণ করা হয় এবং অপরিহার্য জ্ঞান দেয়।” (আল-কিফায়া, পৃষ্ঠা 16)

ইবনে সলাহ বলেন:
“ফুকাহা ও উসুলবিদরা তাওয়াতুর উল্লেখ করেন, কিন্তু মুহাদ্দিসগণ বিশেষ নামে এটি উল্লেখ করেন না। খতিব বাগদাদি যেহেতু এ বিষয়ে লিখেছেন, সম্ভবত তিনি অন্য শাস্ত্রবিদদের অনুসরণ করেছেন, কারণ মুহাদ্দিসদের শিল্পে এর স্থান নেই এবং তাদের বর্ণনাগুলোতে এটি খুব কমই পাওয়া যায়।” (পৃষ্ঠা 453-454)

আমি বলি: যেমন হাদিস “যে আমার ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা আরোপ করবে, সে তার জায়গা জাহান্নামে গ্রহণ করুক”—এটি তাওয়াতুর কিনা, তাতে কীইবা আসে যায়? আসল বিষয় হলো এর সহিহ হওয়া। আর এর অর্থ তো কুরআনের বহু আয়াতেই এসেছে, যেমন:
“আর আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনাকারীর চেয়ে বড় জালেম আর কে?” (আনআ’আম: 21)

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি তাওয়াতুরকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন:
১. সনদের তাওয়াতুর—যা মুহাদ্দিসদের প্রচলিত,
২. স্তরের তাওয়াতুর—যেমন কুরআনের ক্ষেত্রে,
৩. কাজ ও আমলের তাওয়াতুর—যেমন মিসওয়াক বা পাঁচ ওয়াক্ত সালাত,
৪. অর্থগত তাওয়াতুর—যেমন মুজিযার বহুল বর্ণনা।

কিন্তু এ বিভাজনও কোনো প্রকৃত উপকারিতা বহন করে না। কারণ ইতিহাস কখনো প্রমাণিত হয় না কেবল কোনো কিছু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রচলিত থাকার দ্বারা। কত কুসংস্কার, বিশ্বাস ও প্রথা কুফফার ও মুশরিকদের মধ্যে তাওয়াতুরের মতো চালু আছে, অথচ সেগুলো প্রকাশ্য ভ্রান্তি ও মিথ্যা।

অতএব সঠিক পদ্ধতি হলো—মুহাদ্দিসদের অনুসরণ করা। তাদের পদ্ধতি হলো হাদিসের সহিহতা যাচাই করা। হাদিস সহিহ হলে তাতে অবশ্যই আমল করতে হবে, যেমনটি মুহাদ্দিস ও ফুকাহারা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

——————–

ক্যাটাগরি : হাদিস, ইসলামি আলোচনা।

✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—-
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *