ঠিক একইভাবে সময় ও স্থান অতিক্রম (طى زمان ومكان) প্রসঙ্গও আছে। যেমন—কেউ তার শহরেই আছে, কিন্তু কল্পনার শক্তি দিয়ে নিজেকে অন্য কোথাও উপস্থিত মনে করছে। অথবা কেউ আজকের যুগে আছে, কিন্তু ভাবনার জগতে গিয়ে নিজেকে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে কথোপকথনে যুক্ত করছে। কবিদের কবিতায় এ ধরনের সময়-স্থান অতিক্রমের বর্ণনা প্রচুর পাওয়া যায়।
আমার সাথেও সময় ও স্থান অতিক্রমের ঘটনা প্রতিদিন ঘটে। আমি যখন একা হেঁটে চলি বা বিছানায় শুয়ে থাকি, তখন হযরত নবী করীম ﷺ-এর স্মৃতিগুলো মনে ভেসে ওঠে। তাঁর বরকতময় মজলিসগুলো কল্পনায় ঘুরতে থাকে। ইবরাহীম আ. এর ঘটনাগুলো হঠাৎই নতুন হয়ে ওঠে। সাহাবায়ে কিরামের যুদ্ধসমূহের বিস্তারিত দৃশ্য যেন চোখের সামনে ভেসে আসে। কখনো কখনো নিজেকে সুফিয়ান সাওরী, ওয়াকী ইবনে আল-জাররাহ বা ইবনু তাইমিয়ার মতো মুহাদ্দিসদের হাদিসের পাঠচক্রে উপস্থিত মনে হয়।
অবশ্যই এ ধরনের কল্পনার অভিজ্ঞতা সবার সাথেই কমবেশি ঘটে। তবে সাধারণ মানুষ এর সীমা ও বাস্তবতা বোঝে বলেই এসবকে গুরুত্ব দেয় না। এগুলোর মর্যাদা স্বপ্নের চেয়েও কম। কিন্তু কিছু মানুষ মানসিকভাবে দুর্বল হয়, কিংবা নানা ধরনের সাধনার প্রভাবে এতটাই প্রভাবিত হয় যে তারা স্বপ্ন-খেয়ালকেও বাস্তব ভেবে বসে।
মানুষ যখন এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়, তখন তাকে উচিত নয় এগুলো সবার কাছে বর্ণনা করে বেড়ানো। বরং নিজের অসুস্থতার চিকিৎসা করা এবং আল্লাহর কাছে আরোগ্যের দোয়া করা।
আল্লাহ আমাদেরকে ভিত্তিহীন কল্পনা ও মনগড়া কাহিনির প্রচার থেকে রক্ষা করুন, অযথা মিথ্যা বিশ্বাস থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন, এবং আমাদেরকে তাঁর কিতাব, নববী সুন্নাহ ও বিশুদ্ধ জ্ঞানের উপর নির্ভর করার তাওফিক দিন। আমীন।
——————–
ক্যাটাগরি : আত্মশুদ্ধি, সমালোচনা, শিক্ষা।
✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6758