AkramNadwi

প্রসিদ্ধ ও অপ্রচলিত বর্ণনা। তার সঙ্গে বসলে মনে হয়,

প্রসিদ্ধ ও অপ্রচলিত বর্ণনা। তার সঙ্গে বসলে মনে হয়, আপনি যেন মুহূর্তেই ফিরে গেছেন সেই যুগে—যখন কুফা, বসরা ও বাগদাদে হাদিসের আসর বসত, আর শোনা যেত রিকাবের ওপর মুহাদ্দিসদের কলমের আঁচড়, আধুনিক ফটোকপির কাগজের খসখস শব্দ নয়।

এই হলো তুরকী আল-ফুজলী—যিনি একসঙ্গে মিলিয়েছেন ভাষার সৌন্দর্য ও ইসনাদের নিখুঁততা, কথার ফুসহা আর অনুসন্ধানের দৃঢ়তা, ভাষার আর হাদিসের প্রাণ। তিনি তার যুগে হয়ে উঠেছেন আরবি ঘোড়ার কপালের উজ্জ্বল দাগের মতো, দীর্ঘ রাতের অন্ধকারে প্রদীপের মতো—এবং প্রমাণ যে, এই উম্মতে কল্যাণ কখনো শেষ হবে না, যতক্ষণ অন্তত একজন তুরকীর মতো মানুষ থাকবে। তিনি জানেন, হাদিস একটি আমানত, আরবি তার পাত্র; যে পাত্র নষ্ট করল, সে তার ভেতরের সোনার চেয়েও মূল্যবান বস্তু ফেলে দিল।

শায়খ ও ইসনাদ নিয়ে কথা বলতে বলতে তার ঠোঁটে যে হাসি ফুটে ওঠে, তা যেন দীর্ঘ বিরতির পর দূরে দেখা বিদ্যুতের ঝলকানি।

তিনি তরুণ, মার্জিত চরিত্রের, নরম স্বভাবের, চলাফেরায় সবার সঙ্গে সদ্ভাবপূর্ণ। তার সৌন্দর্য ও গুণাবলী এতই সত্যনিষ্ঠ যে তা আমার এবং দেখনেওয়ালাদের জন্য হয়ে ওঠে এক মুগ্ধতা। তিনি আপনাকে প্রায়ই আগে সম্ভাষণ জানাবেন, সাক্ষাতে সম্মান দেখাবেন। তার মুখশ্রী হাসিমুখে উজ্জ্বল, ছাত্রদের জন্য আনন্দময়, আর তার আচরণে প্রতিফলিত হয় তার পূর্বপুরুষদের মহত্ত্ব।

আপনি চাইলে আমি চাইলে এই লেখাটির জন্য উপযুক্ত বাংলা শিরোনামও সাজিয়ে দিতে পারি, যাতে পুরো অনুবাদ আরও সাহিত্যগুণসম্পন্ন হয়ে ওঠে।

———-
আমি কখনো ভুলব না সেই দিনটি—যেদিন প্রথমবার তুরকী আল-ফুজলীকে দেখেছিলাম।
তাকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি যেন বেরিয়ে এসেছেন প্রতিভাবান আলেমদের পুরনো গ্রন্থভাণ্ডারের তাক থেকে।
মনে হয়েছিল, হাফিজ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহিমাহুল্লাহর “শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের কষ্ট সহ্য করার গল্প” গ্রন্থের ঝলমলে কোনো পাতা থেকে তিনি জীবন্ত হয়ে এসেছেন।
আবার মনে হচ্ছিল, ইমাম শামসুদ্দীন যাহাবীর সিয়ার আ’লামিন নুবালা বা তারিখুল ইসলাম থেকে অজান্তেই তিনি বেরিয়ে পড়েছেন।
হয়তো ইবনু আবি হাতিম যখন তার পিতার কাহিনি লিখছিলেন, তখন সেসব চরিত্রের একজন যেন হঠাৎ সশরীরে এসে দাঁড়িয়েছেন আমার সামনে।

তাঁর মধ্যে আমি দেখতে পেয়েছিলাম তৃতীয় হিজরি শতকের মহৎ মানুষদের বৈশিষ্ট্য।
তাদের মতোই তাঁর হাঁটার ভঙ্গিতে ছিল সুন্নাহর মর্যাদার আভা।
আর তাঁর কথা বলার ভেতর দিয়ে ভেসে আসছিল সালাফদের সুগন্ধি ঐতিহ্য।

তিনি যেন এসেছিলেন আমাদের মনে করিয়ে দিতে—আমরা একসময় কী ছিলাম।
যে সময় আমাদের আলেমরা ছিলেন প্রাণবন্ত ও দৃঢ়চেতা।
কিন্তু আজ আমরা নিস্তেজতার রোগে আক্রান্ত।
আমাদের মাঝে বেড়েছে নামধারী বর্ণনাকারীর সংখ্যা, কিন্তু কমে গেছে সত্যিকারের দক্ষ ও বিশ্বস্ত মানুষ।

———-
ক্যাটাগরি : স্মৃতিচারণ, হাদিস, লুগাহ।

✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6735

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *