AkramNadwi

হাদিস “সাত ধরনের মানুষ, যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ায় রাখবেন” সম্পর্কে প্রশ্ন

بسم الله الرحمن الرحيم

✍️ লেখক: ড. মুহাম্মদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।,

প্রশ্ন:

❓ প্রফেসর আসিম যুবসিওক, যিনি বসনিয়ার সারায়েভো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, আমাকে লিখেছেন যে, কেউ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন ইমাম বুখারি ও মুসলিমের বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে। যেখানে নবী সা. বলেন: “সাত ধরনের মানুষকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় রাখবেন, যেদিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না: ন্যায়পরায়ণ শাসক…”। প্রশ্ন হলো, এই ফজিলত কি শুধুমাত্র মুসলিম শাসকদের জন্য প্রযোজ্য, নাকি ন্যায়পরায়ণ হলে অমুসলিমদের জন্যও প্রযোজ্য ? তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নবী সা. বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে যেটা প্রতিরোধ করেন, কুরআনের মাধ্যমে তার চেয়েও বেশি করেন।”

উত্তর:

আমি বললাম: সঠিক কথা হলো, “নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসকের মাধ্যমে প্রতিরোধ করেন” এই উক্তিটি নবী সা. এর নয়, বরং এটি উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান, উমর ইবনে আবদুল আজিজ এবং হাসান আল-বাসরী রা. থেকে বর্ণিত একটি কথা। “প্রতিরোধ” অর্থ হলো থামানো এবং বাধা দেওয়া। অর্থাৎ, অনেক মানুষ আল্লাহর নিষেধ শুনেও পাপ থেকে বিরত হয় না, কারণ তাদের ঈমান দুর্বল, আল্লাহর ভয় কম এবং তারা সঠিক পথে নেই। কিন্তু যখন তারা শাস্তির ভয় পায়, তখন তারা পাপ থেকে বিরত থাকে। এটি মূলত মুসলিম শাসকদের ফজিলতের প্রেক্ষাপটে উল্লেখিত, যদিও অমুসলিমদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তবে এই কথায় জান্নাতে প্রবেশ বা পরকালে পুরস্কৃত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। তাই “সাত ধরনের মানুষ যাদের আল্লাহ তাঁর ছায়ায় রাখবেন” হাদিসের সাথে এই উক্তিকে যুক্ত করা সঠিক নয়।

হাদিস “সাত ধরনের ” এর ব্যাখ্যা:

এটি জানা কথা যে, যেকোনো কথা তার প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়। যদি সেটি প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তার সঠিক অর্থ হারিয়ে যায়। এই হাদিস মূলত মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে এবং তাদের প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে। এটি স্পষ্ট যে হাদিসে উল্লেখিত শ্রেণীগুলো হলো:

1. ন্যায়পরায়ণ শাসক।

2. সেই যুবক যে যৌবন বয়সে আল্লাহর ’ ইবাদাতে কাটিয়েছে।

3. যার হৃদয় মসজিদের সাথে সংযুক্ত।

4. দুজন ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, একত্র হয় এবং পৃথক হয় আল্লাহর জন্য।

5. ‍♂️ সে ব্যক্তি, যাকে কোন উচ্চ বংশীয় সুন্দরী যুবতী কু-কাজ করার জন্য আহবান জানায়। এর উত্তরে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি।

6. যে ব্যক্তি এমনভাবে দান করে যে তার ডান হাত যা দেয়, তার বাম হাত তা জানতে পারে না।

7. সে ব্যক্তি, যে একাকী অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে আর আল্লাহর ভয়ে তার দু’ চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে।

(বুখারী ও মুসলিম)

কোরআনের আলোকে ইসলামের প্রয়োজন:

কোরআন সুস্পষ্টভাবে বলে যে, পরকালে মুক্তি পেতে ইসলাম আবশ্যক। আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহণযোগ্য ধর্ম হলো ইসলাম” (কুরআন ৩:১৯) এবং “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করবে, তা কখনো তার থেকে গ্রহণ করা হবে না” (কুরআন ৩:৮৫)।

উপসংহার:

✅ হাদিসে উল্লেখিত ন্যায়পরায়ণ শাসক, যাকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর ছায়ায় রাখবেন, তিনি হচ্ছেন মুসলিম ন্যায়পরায়ণ শাসক। ✅ ন্যায়পরায়ণ অমুসলিম শাসকদের ক্ষেত্রে, আল্লাহ তাদের দুনিয়াতে পুরস্কৃত করেন তাদের শাসন টিকিয়ে রেখে বা অন্য কোনোভাবে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদের ন্যায়পরায়ণ শাসকদের সঠিকভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার তৌফিক দিন। আমিন।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *