সেগুলোকে ইসলামী পরিভাষায় সাজিয়ে নতুন মোড়কে মুসলমানদের মন ও সমাজে জোরপূর্বক ঢুকিয়ে দিয়েছে।
ইমাম ইবন তাইমিয়্যা রহমাহুল্লাহ বলেন, বিদআতপন্থীরা অন্তরে ও বাস্তবে রাসূলের কাছ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার উপর নির্ভর করে না। তারা নির্ভর করে যা তারা নিজেরা দেখেছে ও অনুভব করেছে তার উপর। যদি সুন্নাহ তাদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়, ভালো। আর যদি না মিলে, তারা কোনো পরোয়া করে না। বরং সুন্নাহ তাদের মতের বিরুদ্ধে গেলে তারা তা উপেক্ষা করে, কিংবা ব্যাখ্যার নামে বিকৃত করে।
অতএব পুরোনো ও নতুন সব জাহেলিয়াত থেকে সম্পূর্ণভাবে হিজরত করো। যেখান থেকে শুরু করেছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সেখান থেকেই আবার শুরু করো।
ইমাম শাফেয়ি তাঁর রিসালায় বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরে আল্লাহ কাউকে এই অধিকার দেননি যে সে পূর্ববর্তী জ্ঞানের ভিত্তি ছাড়া কিছু বলবে। জ্ঞানের উৎস হলো কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, সাহাবি ও তাবেয়িদের آثار (আসার) এবং এগুলোর আলোকে কিয়াস।
আর ইবনুল মাজিশুন বলেন, আমি মালিক ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদআত উদ্ভাবন করে এবং তাকে ভালো মনে করে, সে মূলত এই দাবি করে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রিসালাতের দায়িত্বে খিয়ানত করেছেন। কারণ আল্লাহ বলেছেন, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিয়েছি। সুতরাং সে দিনের দ্বীন যা ছিল না, আজও তা দ্বীন হতে পারে না।
ইমাম ইবনু হাযম রাহিমাহুল্লাহ আল-ইহকাম (খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৩–১৪)-এ বলেন:
এই আয়াতের দ্বারা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো যে, দ্বীন সম্পূর্ণরূপে কেবল আল্লাহ তাআলার কাছ থেকেই গ্রহণযোগ্য। এরপর তা আমাদের কাছে পৌঁছায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে। তিনিই আমাদের কাছে আমাদের প্রতিপালকের আদেশ, নিষেধ ও অনুমতির বার্তা পৌঁছে দেন। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর ছাড়া আর কেউ আমাদের কাছে কিছু পৌঁছানোর অধিকার রাখে না। আর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ ইচ্ছায় কিছু বলেন না; তিনি যা বলেন, তা তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকেই বলেন।
এরপর আমাদের মধ্য থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবানিতে সেই দ্বীন প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের কাছে পৌঁছে। তারাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার কাছ থেকে যা নিয়ে এসেছেন, তা ধারাবাহিকভাবে আমাদের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের জন্যও নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু বলার কোনো সুযোগ নেই। তারা যা বলেন, তা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সূত্রেই।
এটাই সত্য দ্বীনের স্বরূপ। এর বাইরে যা কিছু আছে, সবই বাতিল এবং দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ যা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নয়, তা আদৌ আল্লাহর দ্বীন নয়। আর যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করে দেননি, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এবং যা আমাদের মধ্যকার দায়িত্বপ্রাপ্তরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সূত্রে আমাদের কাছে পৌঁছাননি, তাও দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
———-
| ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, হাদিস , ইসলামি চিন্তাধারা, কোরআন, সমালোচনা।
✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍️ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/2387