সীরাতে তাইয়্যিবা এই পাঠ্যক্রমের কেন্দ্রীয় অংশ হওয়া উচিত, কারণ এটিই সেই আদর্শ, যা চরিত্র গঠন ও বাস্তব জীবনের পথপ্রদর্শক। একইভাবে, নবীদের জীবনের ঘটনাগুলোও এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত, যাতে সেখান থেকে ঈমান, ধৈর্য এবং উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটে।
ফিকহি ও আমলগত বিষয়সমূহের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা জরুরি, ‘তালিমুল ইসলাম’ ও ‘বেহেশতী জেওর’-এর মতো গ্রন্থগুলো তাদের নিজ নিজ সময়ে উপকারী ভূমিকা পালন করলেও, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে এগুলো একটি সুসংগঠিত, ধাপে ধাপে অগ্রসরমান এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে উপযোগী পাঠ্যক্রম গড়ে তুলতে সক্ষম নয়। এগুলোর উপস্থাপনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঐতিহ্যনির্ভর ও বিচ্ছিন্ন প্রকৃতির, যার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর বোধ ও বাস্তব প্রয়োগক্ষমতা সৃষ্টি করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে অধিকতর যুক্তিযুক্ত হবে এমন একটি পাঠ্যক্রম গ্রহণ করা, যা বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর নির্মিত, যেখানে ধাপে ধাপে অগ্রগতি, শিশুমনের বৈশিষ্ট্য এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযোগকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর প্রণীত শিক্ষাক্রম থেকে উপকৃত হওয়া যেতে পারে; কারণ সেখানে দ্বীনি শিক্ষাকে একটি সুসংহত, পর্যায়ক্রমিক এবং বোধনির্ভর পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সমকালীন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আরবি ভাষা শিক্ষার লক্ষ্য কেবল ব্যাকরণ অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং তা হওয়া উচিত কুরআন বোঝার দুয়ার উন্মুক্ত করা। শুরুতে সহজ শব্দ, ছোট বাক্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের অভিব্যক্তি শেখানো হবে, এরপর ধীরে ধীরে ব্যাকরণের দিকে অগ্রসর হতে হবে। একইভাবে ইংরেজি শিক্ষাকেও ব্যবহারিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে, যেন মেয়েরা সহজ কথোপকথন করতে পারে, প্রাথমিক লেখালেখি শিখতে পারে এবং সাধারণ পাঠ্যবস্তু অনায়াসে বুঝতে সক্ষম হয়।
সারকথা এই, একটি সফল শিক্ষাক্রম সেইটিই, যা জ্ঞান ও তরবিয়ত, দ্বীন ও দুনিয়া, এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মধ্যে এক সুসমন্বিত সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে। এমন পাঠ্যক্রমই শিক্ষার্থীদের কেবল একজন ভালো মুসলিম হিসেবেই গড়ে তোলে না, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও সুশীল মানুষে পরিণত করে, যারা নিজেদের দ্বীনের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত থেকেও সমাজে ইতিবাচক ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
আল্লাহ তাআলা আপনার এই মুবারক প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং একে উম্মাহর কন্যাদের জন্য জ্ঞান ও হিদায়াতের এক উজ্জ্বল উৎসে পরিণত করুন।
——————
ক্যাটাগরি : শিক্ষা, ইসলামি চিন্তাধারা, উপদেশ
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8792