AkramNadwi

শিরোনাম : স্ত্রীর গোপনীয়তার অধিকার ও পিতামাতার খে

শিরোনাম : স্ত্রীর গোপনীয়তার অধিকার ও পিতামাতার খেদমতের দায়িত্ব।
————-

| প্রশ্ন:

আমার ছাত্র আবু হানিফা দিলওয়ার জিজ্ঞেস করেছেন:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, সম্মানিত শায়খ।
আপনার লেখা স্ত্রীর আলাদা থাকার অধিকার এর বিষয়ে প্রবন্ধের পর বাংলায় অনেক প্রশ্ন উঠেছে। আমি সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরছি।

বাংলাদেশে, বিশেষত গ্রামে, আর্থিক কারণে অনেক পরিবার একসাথে থাকে। বাবা–মা ছেলে ও পুত্রবধূর উপর নির্ভরশীল। তাই সবাইকে আলাদা থাকতে বলা অনেকের কাছে অবাস্তব বা অসম্মানের মনে হয়। কিন্তু স্বামী–স্ত্রীরও গোপনীয়তা ও সীমার প্রয়োজন। মুসলমানরা কীভাবে আলাদা থাকা, পিতামাতার খেদমত এবং পারিবারিক সৌহার্দ্য—সব মিলিয়ে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে?

| উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার পরিবারগুলোর জন্য। ইসলাম স্ত্রীর অধিকার, স্বামীর দায়িত্ব এবং পিতামাতার হক—সবই স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার ও শান্তি বজায় থাকে।

তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর সেখানে তাদেরকেও বাস করতে দাও।”
(সূরা আত-তালাক ৬৫:৬)

এর মানে হলো স্ত্রীকে এমন জায়গা দিতে হবে যেখানে তিনি সম্মানিত, নিরাপদ ও হস্তক্ষেপমুক্ত থাকেন। ফিকহবিদরা একমত—স্ত্রী বাধ্য নন স্বামীর বাবা–মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে, যদি এতে তার গোপনীয়তা নষ্ট হয়।

দ্বিতীয়ত, শরীয়তে স্ত্রী শ্বশুর–শাশুড়ির খেদমতে বাধ্য নন। এ দায়িত্ব তাদের ছেলে অর্থাৎ স্বামীর উপর। স্ত্রী স্বেচ্ছায় করলে এটি সওয়াবের কাজ, কিন্তু তাকে বাধ্য করা যাবে না। তার প্রধান দায়িত্ব স্বামী ও সন্তানদের প্রতি।

তৃতীয়ত, বিররুল ওয়ালিদাইন (পিতামাতার হক আদায়) সন্তানের নিজের দায়িত্ব। কুরআনে আদেশ এসেছে পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও যত্ন করার (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। কিন্তু এ দায়িত্ব পুত্রবধূর নয়, বরং সন্তানের। তাই ছেলেকেই ব্যক্তিগতভাবে, আর্থিকভাবে বা প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে পিতামাতার খেদমত করতে হবে।

তবে যেখানে একসাথে থাকার সংস্কৃতি প্রচলিত, সেখানে হঠাৎ আলাদা হওয়া কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। তাই স্বামী চেষ্টা করবে স্ত্রীকে আলাদা ব্যবস্থা দেওয়ার—সামর্থ্য থাকলে আলাদা বাসা, না হলে বড় বাড়ির ভেতরেই আলাদা অংশ। একই সাথে বাবা–মার যত্নও ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে যাবে।

এভাবে চললে স্ত্রীর সম্মান রক্ষা হবে, বাবা–মার অধিকার পূর্ণ হবে এবং পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে।

————-
ক্যাটাগরি : পারিবারিক জীবন, ফাতাওয়া, পরামর্শ ,
—-
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *