AkramNadwi

শাওয়ালের ছয় রোজা

শাওয়ালের ছয় রোজা

بسم الله الرحمن الرحيم

❖ প্রশ্ন :
শাওয়ালের ছয় দিন রোজা রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

❖ উত্তর :
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি রমযানের রোজা পালন করল, অতঃপর তার পর শাওয়াল মাসে ছয় দিন রোজা রাখল, সে যেন সমগ্র বছরই রোজা রাখল।
সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সিয়াম।

এই একটিমাত্র হাদিসের ভিত্তিতে কিছু আলিম, যেমন ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল, ইসহাক ইবন রাহাওয়াইহ প্রমুখ, শাওয়ালের ছয় রোজাকে মুস্তাহাব বা প্রশংসনীয় বলেছেন।

কিন্তু অধিকাংশ প্রাচীন আলিম এই মত গ্রহণ করেননি। হাসান বসরী বলতেন, আল্লাহ তাআলা রমযান মাসের রোজা নিয়েই সন্তুষ্ট; অতিরিক্ত কোনো রোজা অপরিহার্য নয়।

ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক এই ছয় দিনের রোজা অপছন্দ করতেন। তাঁদের যুক্তি ছিল দুটি।

প্রথমত, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনদের থেকে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না যে তাঁরা শাওয়ালের ছয় দিন নিয়মিত রোজা রাখতেন। অথচ সৎকর্মে অগ্রগামী হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই ছিলেন সর্বাগ্রে। যদি এ রোজার বিশেষ গুরুত্ব থাকত, তবে নিশ্চয়ই তাঁরা তা পালন করতেন এবং অন্যদেরও শিক্ষা দিতেন।

দ্বিতীয়ত, শাওয়ালের ছয় দিনকে নির্দিষ্ট ও নিয়মিতভাবে রোজা রাখা এমন এক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে, যেন রমযানের ফরজ রোজার সঙ্গে আরেকটি সংযোজন করা হচ্ছে। ফরজ ইবাদতে কিছু যোগ করা, তা বাড়িয়ে তোলা বা ভারী করে তোলা পছন্দনীয় নয়।

ইমাম মালিক বলেছেন, আমি ফিকহের কোনো অনুসারীকে এ ছয় দিন রোজা রাখতে দেখিনি, এবং সালাফদের কারও কাছ থেকেও তা আমার জানা নেই। জ্ঞানীরা এ বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন; তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এটি বিদআতে রূপ নিতে পারে এবং রমযানের অংশ নয় এমন কিছু রমযানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
আল-মুয়াত্তা, কিতাবুস সাওম।

উল্লেখিত হাদিসটি শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত প্রমাণে ব্যবহার করা হয়েছে এবং করা যায়। তবে অধিকতর প্রজ্ঞার দাবি হলো, হাদিসটি সাহাবা ও তাঁদের শিষ্যদের সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে দৃঢ় প্রমাণ থাকা।

মুমিনদের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তাঁরা ছিলেন সর্বাধিক উদগ্রীব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ধারাবাহিক আমলের অনুসরণে তাঁরা ছিলেন অতিশয় সতর্ক। তিনি যেভাবে দীন পৌঁছে দিয়েছেন, তাঁরা তা ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণ করতে চেয়েছেন, নিজেদের পক্ষ থেকে কোনো ‘উন্নয়ন’ বা সংযোজন না করে।

এখানে প্রশ্নটি এই নয় যে, রমযান ছাড়া অন্য দিনে নফল রোজা রাখা উত্তম কি না। নফল ইবাদতের দরজা উন্মুক্ত। বরং প্রশ্নটি হলো, দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো আমলকে নিয়মিত, প্রতিষ্ঠিত রীতি হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা, যা আল্লাহর রাসূল ও তাঁর সাহাবিদের সুপ্রতিষ্ঠিত ধারাবাহিক আমল হিসেবে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।

এই আত্মসংযমই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিশেষ কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধার অংশ। আর সেই শ্রদ্ধাবোধই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ঐক্য ও সংহতির অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি।

————-

ক্যাটাগরি : ফিকাহ, রামাদান, ইসলামি চিন্তাধারা, হাদিস

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8497

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *