AkramNadwi

বিয়েতে কনের পক্ষের দাওয়াত: শরিয়ত কী বলে?

বিয়েতে কনের পক্ষের দাওয়াত: শরিয়ত কী বলে?

❖ প্রশ্ন

সম্মানিত উস্তাদ, শাইখ মুহাম্মদ আকরম নাদভী হাফিযাহুল্লাহ
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আল্লাহ তাআলা আপনার দ্বীনি খিদমাতসমূহ কবুল করুন।

হযরত, আমরা জানতে চাই, বিয়ের দিন কনের পক্ষ থেকে যে খাবারের আয়োজন করা হয়, সেই দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা এবং এ ধরনের দাওয়াত গ্রহণ করার শরয়ি হুকুম কী? এ বিষয়ে শরিয়তের কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না, অনুগ্রহ করে দিকনির্দেশনা দিলে কৃতজ্ঞ হব।

= উমর মাহবুব নাদভী
নালা সোপারা, মহারাষ্ট্র

❖ উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

এই মাসআলার সঠিক প্রকৃতি অনুধাবনের জন্য শরিয়তের কয়েকটি মৌলিক নীতি সামনে রাখা জরুরি, যাতে নিকাহের মতো পবিত্র ও বরকতময় একটি আমল অপ্রয়োজনীয় বোঝা ও জটিলতা থেকে সুরক্ষিত থাকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক নীতি হলো, শরিয়ত নিকাহ ও বিয়ের ক্ষেত্রে কনে কিংবা তার পরিবারের ওপর কোনো আর্থিক দায়ভার আরোপ করেনি। তাদের ওপর না যৌতুক দেওয়া ফরজ, না ওয়ালিমার আয়োজন করা আবশ্যক, আর না বিয়ের দিন বা সংশ্লিষ্ট কোনো ভোজ-ব্যবস্থার দায়িত্ব তাদের কাঁধে চাপানো হয়েছে। শরিয়তের স্পষ্ট রূপরেখা এই যে, কনে ও তার পরিবারকে আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করা হবে, আর নিকাহকে সহজতা ও রহমতের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে, বোঝা ও পরীক্ষার রূপে নয়।

শরিয়তে ওয়ালিমার স্থান ও মর্যাদা নির্ধারিত, আর তা কেবল বরপক্ষের জন্যই প্রযোজ্য। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সুন্নাহ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, নিকাহের পর আনন্দ প্রকাশের উদ্দেশ্যে দাওয়াতের আয়োজন বরপক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। এর বিপরীতে কনের পক্ষ থেকে ওয়ালিমা বা এ ধরনের কোনো দাওয়াতের না কোনো শরয়ি নির্দেশ আছে, না কোনো উৎসাহ। একইভাবে যৌতুকও শরিয়তের কোনো অংশ নয়; এটি নিছক সামাজিক একটি রেওয়াজ। একে দ্বীনি মর্যাদা দেওয়া বা আবশ্যক মনে করা সঠিক নয়।

এই নীতিগত ব্যাখ্যার পর বিষয়টি এভাবে বোঝা যায়, বিয়ের দিন কনের পক্ষ থেকে খাবারের আয়োজন করা স্বয়ং অবৈধ নয়। যদি কনের পরিবার নিছক আনন্দ, অতিথিপরায়ণতা ও সুন্দর সামাজিক আচরণের তাগিদে, কোনো দাবি, প্রত্যাশা কিংবা চাপ ছাড়া খাবারের ব্যবস্থা করে, তবে সে দাওয়াতে অংশগ্রহণ করা শরিয়তসম্মতভাবে জায়েজ। শরিয়ত আনন্দের প্রকাশ ও পারস্পরিক সম্পর্কের সৌন্দর্যকে পছন্দ করে, তবে তা অবশ্যই সীমার ভেতরে থাকতে হবে।

তবে এই জায়েজের সঙ্গে কয়েকটি শর্তের প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখা জরুরি। প্রথমত, এটি যেন সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা প্রচলিত চাপের ফল না হয়। দ্বিতীয়ত, বরপক্ষের পক্ষ থেকে যেন এর কোনো দাবি বা প্রত্যাশা না থাকে। তৃতীয়ত, এতে যেন অপচয়, লোকদেখানো কিংবা কোনো শরয়ী বিরোধী বিষয় অন্তর্ভুক্ত না হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একে নিকাহের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা স্থায়ী রেওয়াজে পরিণত করা যাবে না।

যদি কনের পক্ষের দাওয়াত এমন স্তরে পৌঁছে যায় যে, তা অপরিহার্য বলে বিবেচিত হতে থাকে, কিংবা তা না করলে আপত্তি, অভিযোগ বা কটূক্তির শিকার হতে হয়, তবে সেই বৈধ কাজটিই শরিয়তের স্বভাবের বিরুদ্ধে পরিণত হয়। শরিয়ত এমন সব বিষয় নিরুৎসাহিত করে, যা মূলত অনুমোদিত হওয়া সত্ত্বেও রীতি হয়ে মানুষের জন্য বোঝা ও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

একইভাবে, এ ধরনের কোনো দাওয়াতে অংশ না নেওয়াকে দোষ হিসেবে দেখা বা সম্পর্কের অবনতির কারণ বানানোও সঠিক নয়। কারণ শরিয়ত এমন কোনো কাজকে বাধ্যতামূলক করেনি, যার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে প্রমাণিত নয়।

————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকাহ, উসরাহ, আখলাক।

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8334

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *