|১৭|০২|২০২৬|
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্ন:
প্রফেসর মুহাম্মদ আরশাদ সাহেব প্রশ্ন করেছেন:
আসসালামু আলাইকুম। বিতরের নামাজ কোন সময় আদায় করা উচিত? রমযান মাসে সেহরির জন্য জাগতে হয়, আর সে সময় তাহাজ্জুদ পড়ারও সুযোগ হয়ে যায়। এ অবস্থায় কি বিতর তাহাজ্জুদের পরে পড়া উচিত?
উত্তর:
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার প্রশ্নটি বাস্তব জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে রমযানুল মুবারকে, যখন কিয়ামুল লাইল, তাহাজ্জুদ ও নানা নফল ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়, আর একজন মুমিন তার রাতের ইবাদতকে সুন্নতে নববীর আলোকে সুন্দরভাবে বিন্যস্ত করতে চান।
সহিহ হাদিস ও উম্মাহর ফকিহদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের আলোকে এ বিষয়টি নির্ধারিত যে, বিতরের সময় শুরু হয় ইশার নামাজের পর থেকে এবং ফজরের সাদিক উদয়ের আগ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। রাতের এ সমগ্র সময়জুড়ে বিতর আদায় করা সহিহ ও গ্রহণযোগ্য, চাই রাতের প্রথম প্রহরে পড়া হোক, চাই শেষ প্রহরে। এই সময়ের প্রশস্ততার মধ্যেই শরিয়তের প্রজ্ঞা নিহিত, যাতে প্রত্যেকে তার সুবিধা, অভ্যাস ও সামর্থ্য অনুযায়ী এ ইবাদত সম্পাদন করতে পারে।
এখন আসি উত্তমতার প্রসঙ্গে। নবী করীম সা. নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা রাতের নামাজের সমাপ্তি করো বিতরের মাধ্যমে। এ নববী নির্দেশনা থেকে ফকিহগণ এ নীতি গ্রহণ করেছেন যে, বিতরকে কিয়ামুল লাইলের শেষ নামাজ হিসেবে রাখা উত্তম। অতএব, যে ব্যক্তি রাতের শেষাংশে জাগতে সক্ষম, অথবা যার দৃঢ় ধারণা রয়েছে যে সে তাহাজ্জুদের জন্য অবশ্যই উঠবে, তার জন্য শ্রেয় হলো বিতরকে বিলম্বিত করা এবং তাহাজ্জুদের পরে আদায় করা। এতে তার সমস্ত নফল ইবাদত বিতরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এবং সে সুন্নতের অধিক সান্নিধ্যে পৌঁছে।
রমযান মাসে যেহেতু সেহরির জন্য জাগার প্রস্তুতি থাকে, তাই অধিকাংশ মানুষের জন্য তাহাজ্জুদের সুযোগও সৃষ্টি হয়। যদি কেউ অভিজ্ঞতাবশত নিশ্চিত থাকেন যে তিনি সহজেই জেগে উঠতে পারেন এবং তাহাজ্জুদ তার জন্য কষ্টসাধ্য নয়, তবে উত্তম পদ্ধতি হলো, প্রথমে তাহাজ্জুদের রাকাতসমূহ আদায় করা, তারপর খুশু ও বিনয়ের সঙ্গে দোয়া ও ইস্তিগফারে মগ্ন থাকা, এবং সবশেষে বিতর পড়ে রাতের ইবাদতকে পূর্ণতা দেওয়া। এভাবে তার কিয়ামুল লাইল বিতরের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে, যা উত্তম ও সুন্নতসম্মত পন্থা।
কিন্তু যদি কারও মনে সংশয় থাকে, ঘুম ভাঙবে কি না, নাকি ঘুমই প্রাধান্য পাবে, তবে প্রজ্ঞা ও সতর্কতার দাবি হলো, সে যেন বিতর বিলম্ব না করে; বরং ইশার পর, ঘুমানোর আগেই আদায় করে নেয়, যাতে এ গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত অনাদায়ী না থাকে। শরিয়তের স্বভাবই হলো সহজতা ও ভারসাম্য; এমন কোনো অতিরিক্ত কষ্টের পথে সে আহ্বান করে না, যার ফলে মূল ইবাদতই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আর যদি কেউ ইশার পর বিতর আদায় করে ফেলে এবং পরে অপ্রত্যাশিতভাবে রাতের শেষাংশে জেগে ওঠে, তবে সে তাহাজ্জুদ পড়তে পারে; তবে একই রাতে পুনরায় বিতর আদায় করবে না। কারণ ‘বিতর’ তো রাতের নামাজকে বেজোড় করে দেওয়ারই নাম, এক রাতে তা একবারই যথেষ্ট।
সারকথা, শরিয়ত বিতরের সময়ে প্রশস্ততা দিয়েছে এবং আদায়ের ক্রমে দিয়েছে প্রজ্ঞাপূর্ণ দিকনির্দেশনা। মূল উদ্দেশ্য এই যে, বান্দা তার অবস্থা অনুযায়ী এমন পথ বেছে নিক, যাতে ইবাদত অধিক প্রশান্তি, স্থায়িত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় এবং সুন্নতের অনুসরণও অক্ষুণ্ণ থাকে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রাতের ইবাদতের স্বাদ, সুশৃঙ্খল সাধনার সৌন্দর্য এবং পূর্ণ সুন্নত-অনুসরণের তাওফিক দান করুন। আমাদের নামাজসমূহ তাঁর দরবারে কবুল করুন। আমীন।
————-
ক্যাটাগরি : রামাদান, ফিকহ, ফাতাওয়া৷ ইসলামি চিন্তাধারা, শিক্ষা
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8438