AkramNadwi

শিরোনাম : নাবালক সন্তানের সম্পদের যাকাত ২৫/৩/২০২৬

শিরোনাম : নাবালক সন্তানের সম্পদের যাকাত
২৫/৩/২০২৬

প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আশা করি আপনি ভালো আছেন।
যদি কোনো নাবালক শিশুর কাছে উপহার হিসেবে কিছু স্বর্ণ থাকে, তবে সেই স্বর্ণের যাকাত সম্পর্কে শরিয়তের বিধান কী?

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

হানাফি ফিকহের মূলনীতির আলোকে যাকাত শুধু সম্পদের উপর নির্ভরশীল নয়; বরং সম্পদের মালিকের উপরও নির্ভরশীল, যে মালিক হতে হবে শরিয়তের দৃষ্টিতে ‘মুকাল্লাফ’, অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন। এই ভিত্তিতেই আহনাফের মতে, নাবালক কিংবা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তির সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হয় না, যদিও সেই সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছে যায় এবং তার উপর পূর্ণ এক বছর অতিক্রান্ত হয়।

অতএব, কোনো নাবালক শিশুর কাছে যদি উপহার হিসেবে স্বর্ণ থাকে, তবে সেই স্বর্ণের উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না, সে স্বর্ণ নিসাবের সমপরিমাণ হোক বা তার চেয়েও বেশি হোক।

এই বিধানের অন্তর্নিহিত কারণ হলো, যাকাত একটি ইবাদত, আর ইবাদত ফরজ হওয়ার জন্য ‘তাকলিফ’ তথা প্রাপ্তবয়স্কতা ও সুস্থবুদ্ধি অপরিহার্য শর্ত। যেহেতু নাবালক শিশু শরিয়তের দৃষ্টিতে এখনো মুকাল্লাফ নয়, তাই তার সম্পদের উপর যাকাতকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

একইভাবে, শিশুর অভিভাবক, যেমন পিতা বা অন্য কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তার উপরও এই দায়িত্ব বর্তায় না যে, সে শিশুর সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করবে। কারণ যখন মূলত যাকাতই ফরজ নয়, তখন তা আদায়ের দাবিও থাকে না।

তবে অভিভাবক যদি নিজ উদ্যোগে শিশুর সম্পদ থেকে কিছু অংশ সদকা হিসেবে ব্যয় করেন, সেটি একটি ভিন্ন বিষয়। একে যাকাত হিসেবে গণ্য করা হবে না; বরং এটি হবে নফল সদকা। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই শিশুর কল্যাণের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে এবং অযথা তার সম্পদে হ্রাস ঘটানো যাবে না।

অবশ্য, যখন সেই শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠবে, তখন তার সম্পদের উপর যাকাতের বিধান প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, তার কাছে যদি স্বর্ণ বা অন্যান্য সম্পদ নিসাব পরিমাণে থাকে, তবে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলে তার উপর যাকাত ফরজ হবে।

সারকথা
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নাবালক সন্তানের কাছে থাকা স্বর্ণের উপর যাকাত ফরজ নয়, এবং তার অভিভাবকের উপরও তা আদায় করা আবশ্যক নয়, যদিও সেই সম্পদ নিসাব পরিমাণে পৌঁছায় এবং তার উপর পূর্ণ বছর অতিবাহিত হয়।

———-

ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকাহ, শিক্ষা, ইসলামি চিন্তাধারা

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8779

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *