২৫ রমজান ১৪৪৭ হিজরি
بسم الله الرحمن الرحيم
আমি জায়েদের দিকে তাকালাম, দেখলাম সে হিংসুক।
আমরের দিকে তাকালাম, দেখলাম সে অজ্ঞ।
সামিরের দিকে তাকালাম, দেখলাম সে অশ্লীল ও অশোভন ভাষার মানুষ।
হাজ্জাজের দিকে তাকালাম, দেখলাম তার অন্তর ভরা বিদ্বেষে।
আমি যার দিকেই তাকিয়েছি, তার মধ্যেই যেন কোনো না কোনো দোষ খুঁজে পেয়েছি, কখনো একটি, কখনো একাধিক। মনে হলো, সব মানুষের মধ্যেই যেন ত্রুটিরই সমাবেশ; যেন প্রতিটি মুখ কোনো না কোনো অমঙ্গলের কথা বলছে, আর প্রতিটি হৃদয় ভরে আছে এমন কিছুর ভারে, যা মানুষ নিজের মধ্যে দেখতে চায় না।
তারপর আমি আবার তাকালাম, আরও গভীরভাবে, আরও মনোযোগ দিয়ে। চিন্তা ও পর্যবেক্ষণে ডুব দিলাম। তখন আমার সামনে এমন এক সত্য উন্মোচিত হলো, যা আগে কখনো কল্পনাতেও আসেনি।
আমি বুঝতে পারলাম, আমার আর মানুষের মাঝে আর কেউ নেই, আছে শুধু একটি আয়না। সেই আয়না, যেখানে আমি অন্যের আগে নিজের মুখই দেখি। সেই আয়না, যা আমার ভেতরের হিংসা, অজ্ঞতা, অশ্লীলতা আর বিদ্বেষই আমাকে ফিরিয়ে দেখায়।
আমি আসলে যা নিজের মধ্যে বহন করছি, তা-ই অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছিলাম। নিজের বোঝা তাদের কাঁধে তুলে দিচ্ছিলাম, অথচ তারা ছিল সম্পূর্ণ নির্দোষ।
তখন আমি নিজেকেই বললাম;
হে আমার নফস! যখনই তুমি অন্যের মধ্যে কোনো দোষ দেখো, সেখান থেকে নিজেকে ফিরিয়ে আনো। যখনই কারও মধ্যে কোনো পাপ চোখে পড়ে, তার জন্য নিজেই তওবা করো।
কারণ মানুষের মধ্যে যে দোষ ও পাপ তোমার চোখে এত স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সেগুলো আসলে তাদের নয়, তোমার নিজেরই। আয়না সেগুলো তাদের মুখে প্রতিফলিত করে, আর তুমি ভেবে বসো, তুমি সত্যই দেখছ; অথচ তুমি দেখছ কেবল নিজেরই প্রতিচ্ছবি।
তাই শুরু করো নিজেকে দিয়ে।
নিজের হৃদয়কে পবিত্র করো।
তোমার দৃষ্টিতে সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করো।
নির্দোষ মানুষের ওপর তড়িঘড়ি করে রায় দেওয়া থেকে নিজেকে সংযত রাখো।
মানুষ আসলে আয়নার মতো,
যে সত্য দেখতে চায়, তার জন্য তারা স্বচ্ছ আয়না;
আর যে শুধু অন্যের দোষ দেখতে চায়, তার জন্য তারা অন্ধকার আয়না।
তখন তুমি মানুষের মধ্যে এমন কিছুই দেখবে না, যা তাদের দোষারোপ করতে বাধ্য করে; বরং এমন কিছুই দেখবে, যা তোমাকে আল্লাহর রহমতের কথা মনে করিয়ে দেবে এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করবে।
তখন পুরোনো সেই আয়নাটি ভেঙে যাবে।
তোমার হৃদয়ে জন্ম নেবে আরেকটি নির্মল আয়না।
যে আয়না আর নফসের ত্রুটি প্রতিফলিত করবে না; বরং প্রতিফলিত করবে করুণা ও ন্যায়ের আলো।
তখন আর কিছু থাকবে না,
শুধু আমি আর আয়না।
আর সেই আয়না হবে স্বচ্ছ, তার জন্য যে দেখতে জানে;
আর অন্ধকার, তার জন্য যে অন্যকে দোষারোপ করতেই অনড়।
আর আমি তখন নিজেকেই দেখব, নিজের সত্যকে চিনব,
এবং এমন এক হৃদয় বহন করব,
যেখানে সন্দেহ নেই, অভিযোগ নেই।
————–
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, ইসলামি চিন্তাধারা, শিক্ষা
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8690