بسم الله الرحمن الرحيم
আমার আত্মা আমাকে বলল: আমি পরম আনন্দের উদ্যান- জান্নাতে প্রবেশ করতে চাই।
আমি বললাম: আকাঙ্ক্ষাটি মহৎ বটে। আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশা মানুষকে উচ্চতায় তোলে, আর তাঁর অনুগ্রহের আশা করা নিজেই এক ইবাদত।
কিন্তু জান্নাতের একটি সুস্পষ্ট পথ আছে। তা কল্পনার ভেলায় ভেসে পাওয়া যায় না, কেবল দাবির ভাষণে অর্জিত হয় না।
তুমি কি জানো না, তার পথ হলো আনুগত্যকে বরণ করা, প্রবৃত্তির টানকে প্রতিহত করা, আর নফসকে শাসনে আনা? অথচ দেখি, কামনা যেদিকে ঝোঁকে তুমিও সেদিকেই ঝুঁকে পড়ো। তাহাজ্জুদের ডাক এলে ভারী হয়ে যাও, তাওবা পেছাও, যেন মৃত্যু তোমার নির্দেশে বিলম্বিত হবে!
তুমি কি সেই গৃহের বাসনা করছ, যা মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বঞ্চনার কারণগুলো আঁকড়ে ধরেই?
সত্য আশা সে-ই, যা কর্মের সাথে যুক্ত; সত্য ভীতি সে-ই, যা বিনয় ও সংযম জন্ম দেয়। আর শূন্য কল্পনা? তা দেউলিয়াদের মূলধন মাত্র।
আল্লাহর পণ্য অমূল্য। তা দেহের আরাম দিয়ে পাওয়া যায় না, ক্ষণস্থায়ী সুখকে প্রাধান্য দিয়ে অর্জিত হয় না। তা পাওয়া যায় প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামে, নফসের সাথে অবিচল লড়াইয়ে, এবং আন্তরিকভাবে রবের দিকে প্রত্যাবর্তনে।
যদি তোমার আকাঙ্ক্ষা সত্য হয়, তবে কাজে ওঠো, সময় ফুরাবার আগেই দ্রুত এগিয়ে চলো।
কারণ জীবন তো কেবল গোনা কয়েকটি নিঃশ্বাস। যখন তা শেষ হয়ে যাবে, আশার দুয়ার বন্ধ হবে, আর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যাবে।
———-
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, আখলাক, নাসিহাহ, ইসলামি চিন্তাধারা
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8467