শিরোনাম : একজন ছাত্রীর চিঠি।
—————-
ইলম ও হিকমতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, আমার প্রিয় শিক্ষক শায়খ ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী (হাফিজাহুল্লাহ)-এর নিকট,
আপনি আমার জীবন বদলে দিয়েছেন—এবং হাজারো নারীর জীবনেও পরিবর্তনের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আমি সক্রিয়ভাবে দাওয়াহর কাজে নিয়োজিত আছি, বিশেষ করে নারীদেরকে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে আত্মপ্রেরণা ও শান্তি খুঁজে পেতে সাহায্য করি। কিন্তু অনেক সময় কিছু আয়াত ও হাদীসকে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়, যা নারীদের মনে প্রশ্ন তোলে। অনেকে জিজ্ঞেস করে—ইসলাম কি সত্যিই ন্যায়বিচারের ধর্ম? আল্লাহ কি নারীদের ঘৃণা করেন? আমাদের কি আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য আছে? তাদের সামনে যে ইসলামকে তুলে ধরা হয়েছে, সেখানে নারীদের জন্য কোনো মর্যাদা নেই, নারীদের কণ্ঠস্বর প্রজন্মের পর প্রজন্ম উপেক্ষিত, বরং নারীদের ওপর অবিচারকেই ইসলামসম্মত বলা হয়েছে। তারা জানতে চায়—কোথা থেকে তারা এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি শিখবে, যেখানে নারীদের অধিকার ও সম্মান ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর যেখানে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।
সেই মুহূর্তেই আমি তাদেরকে আপনার অমূল্য গ্রন্থ আল-মুহাদ্দিসাত–এর দিকে নির্দেশ করি। আপনার বই ও অনলাইন বক্তৃতা আমি শত শত নারীর কাছে সরাসরি, আর হাজারো নারীর কাছে অনলাইনের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছি।
তারপর সেই নারীরাই কয়েক মাস বা কয়েক বছর পরে ফিরে আসে আমার কাছে কৃতজ্ঞতার অশ্রু ও হাসি নিয়ে। তারা বলে—তাদের জীবন আমূল বদলে গেছে, তারা আবার আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে। কেউ জীবনে প্রথমবার নামাজে দাঁড়িয়েছে, কেউ প্রতিদিন কুরআন পড়তে শুরু করেছে, কেউ মুখস্থ করার পথে এগোচ্ছে। কেউ বহুদিন বাদ দিয়ে আবার হিজাবের ছায়ায় ফিরেছে, আবার কেউ প্রথমবারের মতো হিজাবকে গ্রহণ করেছে। আজ তারা সচেতনভাবে তাদের ছেলে-মেয়েদের ইসলামের প্রেম শেখাচ্ছে—যেখানে একসময় তারা নিজেরাই দ্বিধায় ছিল, সন্তানের হৃদয়ে আদৌ ইসলামের প্রতি টান সৃষ্টি করবে কি না।
শায়খ আকরাম, সম্প্রতি শুনলাম—কিছু মানুষ আপনার এই মহৎ কাজের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি সত্যিই হৃদয়বিদারক। অথচ আপনার কাজই বিশ্বজুড়ে মুসলিম নারীদের কাছে ইসলামের সৌন্দর্য পৌঁছে দেওয়ার মূলভিত্তি। আমি প্রতিদিনই বার্তা পাই—কিশোরী থেকে শুরু করে সত্তরোর্ধ্ব নারীরা জানায়, তারা জীবনে প্রথমবারের মতো আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে খুঁজে পাচ্ছে, আর তা আপনার কাজের শিক্ষার মাধ্যমেই।
অনেক সময় কোনো আলিম তাঁর জীবদ্দশায় আশেপাশের মানুষের কাছে যথাযথভাবে মূল্যায়িত হন না। কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পরের প্রজন্ম সেই জ্ঞানকে খুঁজে নেয়, গ্রহণ করে, আর সেই জ্ঞান অসংখ্য মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দেয়। আল্লাহর কাছে দোয়া করি , আপনার কাজও যেন তেমন হয়।
আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘ, সুস্থ ও ইবাদতে ভরা জীবন দিন, এবং আপনার কাজকে কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের ঈমান রক্ষার মাধ্যম বানিয়ে দিন। আপনার ইন্তেকালের পরও যেন আপনার ইলম এই উম্মাহর প্রজন্মের ঈমান অটুট রাখার হাতিয়ার হয়।
শায়খ, আমি যদি কোনোভাবে খিদমতে আসতে পারি, তবে তা আমার জন্য সীমাহীন সম্মানের বিষয় হবে, ইনশাআল্লাহ।
—
আপনার ছাত্রী
মারইয়াম আমির
—————
ক্যাটাগরি : ইসলামি চিন্তাধারা,
✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://t.me/DrAkramNadwi/2789