শিরোনাম : ইসলামের উদ্দেশ্য।
————–
ইসলামের উদ্দেশ্য কোনো ইসলামী সামাজিক বা রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং মূল উদ্দেশ্য হলো নারী-পুরুষ, ছোট-বড়—সকল মানুষের আল্লাহকে খুশি করার জন্য চেষ্টা করা। সামষ্টিক জীবন, আচার-অনুষ্ঠান, শিষ্টাচার ও আইন এই উদ্দেশ্যে সহায়ক হবে—এর বিকল্প নয়।
আমরা যখন দুনিয়ায় আসি, তখন আমরা নির্ভরশীল সত্তা হিসেবে আসি—আমাদের অস্তিত্ব পিতা-মাতা, পরিবার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গে ভাগাভাগি করে গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ‘ভাগাভাগি সত্তা’ ক্রমে ক্রমে পৃথক ও স্বতন্ত্র হয়। আর যখন আমরা দুনিয়া ছেড়ে যাই, তখন এর বিপরীত রূপে বিদায় নেই—একক সত্তা হিসেবে, অবিভাজ্য ব্যক্তি হিসেবে। তখন আমাদের যে অস্তিত্ব অন্যদের সঙ্গে ভাগাভাগি ছিল, তার কোনো হিসাব নেওয়া হবে না। আখিরাতে কারও সম্পর্ক কারও কোনো উপকারে আসবে না। পিতা-মাতা ও সন্তান, স্বামী-স্ত্রী, প্রিয়তম বন্ধু—কেউ কারও দিকে খেয়াল করবে না; প্রত্যেকের একমাত্র চিন্তা হবে নিজের আত্মা নিয়ে।
এই প্রেক্ষাপটে, দুনিয়ার সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততাগুলো এমনভাবে সাজানো ও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত যাতে আমরা আমাদের সেই চূড়ান্ত একাকিত্বকে ভুলে না যাই, কিংবা নিজের কাছ থেকে গোপন না করি—যেখানে ব্যক্তিগত দায়িত্বই উপস্থাপিত হবে, বিচার হবে এবং প্রতিফল দেওয়া হবে। তবে এটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এমন পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলা ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, যা একজন মানুষকে তার ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নতির দিশারী হিসেবে ইসলামের প্রতি অঙ্গীকার আখিরাতের বিচারের প্রস্তুতির জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ভুল হলো—এই দুনিয়ার ঘটনাপ্রবাহের চূড়ান্ত মূল্য দুনিয়ার মানদণ্ডে বিচার করা। বরং এগুলোকে বিচার করা উচিত এই প্রত্যাশায় যে, তাদের আসল মূল্য আখিরাতে প্রকাশ পাবে। মানুষের বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা ও পক্ষপাতের কারণে নিজের কিংবা অন্যদের সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দেওয়া উচিত নয়। এভাবেই নিজের ও অন্যদের জন্য আশার জায়গা খোলা থাকে—যে তাওবা, সংশোধন এবং অনুকূল বিচার সর্বদাই সম্ভব।
———-
ক্যাটাগরি : আত্মশুদ্ধি, ইসলামি চিন্তাধারা, শিক্ষা।
—-
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7081