শিরোনাম : অসুস্থ মায়ের সেবা
————-
|| প্রশ্ন :
শায়খা ফারহাত হাশিমি, সম্মানিত শিক্ষিকা ও দাঈয়া, তার এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্ন শেয়ার করেছেন:
আসসালামু আলায়কুম প্রিয় উস্তাযা আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনি ভালো আছেন। আল্লাহ আপনাকে সর্বদা তাঁর রহমতের আচ্ছাদনে রাখুন।
উস্তাযা, আমার মা খুবই অসুস্থ। তার ক্যান্সার হয়েছে এবং রোগ এতটাই বেড়ে গেছে যে প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখন অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। আর কোনো চিকিৎসা সম্ভব নয়—এখন আমরা তাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি, যেন শেষ দিনগুলোতে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।
তিনি খুব অস্থির থাকেন এবং কখনো কখনো ব্যথাতেও কষ্ট পান। আমি জানতে চেয়েছিলাম, এই সময়ে তাকে বলার মতো বা পাশে বসে পাঠ করার মতো সবচেয়ে ভালো জিনিসগুলো কী? কোন কথাগুলো তার জন্য স্বস্তির হবে এবং সবচেয়ে বেশি উপকার করবে? সাধারণত আমরা শিফার দোয়া, কুরআন তিলাওয়াত এবং আয়াতে সাকীনা পড়ি। এ ছাড়াও তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আর কী কী কথা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া উচিত? তিনি আমাদের কথা শুনতে পান, কিন্তু বলার মতো শক্তি নেই। বেশিরভাগ সময় চোখ বন্ধ থাকে, আধো ঘুমন্ত অবস্থায় থাকেন।
আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই যে, আমরা যেন সন্তান হিসেবে তার হক পূরণ করতে পারি এবং এই সময়ে তার জন্য যতটুকু সম্ভব সর্বোত্তম ভাবে করতে পারি।
|| উত্তর:
ওয়া আলায়কুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আল্লাহ আপনাকে শক্তি দান করুন এবং এই কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তে আপনার অন্তর শান্তিতে পূর্ণ করুন। মায়ের অসুস্থ অবস্থায় তার সেবা করা ইবাদতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ, যার প্রতিদান অগণিত। কুরআন ও সুন্নাহতে পিতামাতার সেবার কথা আল্লাহর ইবাদতের পরপরই উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে গভীর হিকমত আছে—সন্তান প্রতিপালনে অভিভাবকরা ভবিষ্যতে কিছু পাওয়ার আশা করতে পারেন, কিন্তু বৃদ্ধ বা অসুস্থ পিতামাতার যত্নে সাধারণত কোনো প্রতিদান পাওয়ার আশা থাকে না।
আপনি যা করছেন তা অত্যন্ত সুন্দর, সেটি অব্যাহত রাখুন। খেয়াল রাখবেন, যেন কখনো আপনার ভেতর অস্থিরতা বা বিরক্তি প্রকাশ না পায়, এবং আপনার কোনো কথা বা আচরণে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত না হন। প্রতিটি কথা ও আচরণে তাঁর সঙ্গে কোমল ও স্নেহময় ব্যবহার করা-ই তাঁর হক আদায়ের অংশ।
যদি তিনি সামর্থ্য রাখেন, তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে তাকে সাহায্য করুন—যদিও তা তায়াম্মুম করিয়ে শুয়ে শুয়ে নামাজ পড়া হয়। আর যদি কোনোভাবেই নামাজ আদায় সম্ভব না হয়, তবে প্রতিটি নামাজের বদলে সদকাতুল ফিতরের সমপরিমাণ সদকা দিন।
এর পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, সহীহ আজকার ও দোয়া তার পাশে পড়তে থাকুন। আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও মাগফিরতের কথা তাকে বলুন, কারণ এসব স্মরণ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। যখনই তিনি কিছুটা সজাগ হন, নরম স্বরে তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পড়তে উৎসাহিত করুন। এই বরকতময় কালেমাই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি।
আল্লাহ তাআলা আপনার মায়ের কষ্ট হালকা করে দিন, তাঁকে তাঁর রহমতের ছায়ায় ঢেকে নিন এবং তাঁর কাছে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবর্তন দান করুন। আর আপনাদেরকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, ধৈর্য ও সেবার জন্য বিপুল প্রতিদান দান করুন।
——————–
ক্যাটাগরি : আখলাক/নৈতিকতা, উসরাহ (পরিবার)
✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w