AkramNadwi

শিরোনাম : অনলাইন বিবাহ। ———- بسم الله الرحم

শিরোনাম : অনলাইন বিবাহ।
———-
بسم الله الرحمن الرحيم.

|| প্রশ্ন:

অক্সফোর্ড থেকে আমাদের প্রিয় বন্ধু সালমান বাশা সাহেব জানতে চেয়েছেন—
অনলাইন বিবাহের শরয়ি হুকুম কী? এভাবে কি বৈধভাবে বিবাহ সম্পাদন করা যাবে? দয়া করে এর উত্তর প্রদান করুন। جزاکم الله خیرا۔

||উত্তর:

বিবাহের মূল নিয়ম হলো—ইজাব ও কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) মাধ্যমে, ন্যায়পরায়ণ ও প্রাপ্তবয়স্ক দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ সম্পন্ন হলে তা শরিয়ত অনুযায়ী সহীহ হয়। আর যতটা সম্ভব, এর প্রকাশ ও ঘোষণা করাও জরুরি। পাশাপাশি, মোহর ধার্য করা আবশ্যক, এবং বিবাহের পর স্বামীকে স্ত্রীর বাসস্থান, ভরণপোষণ এবং সবধরনের দীনদুনিয়ার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এই সব বিষয় নিশ্চিত করে যে, বিবাহ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি একটি বাস্তব ও দৃঢ় সম্পর্ক, যা শরিয়ত ও সমাজ—উভয়ের দৃষ্টিতেই পূর্ণ মর্যাদাসম্পন্ন হয়।

এখন, যদি এই সব শর্ত মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পূর্ণ করা যায়, তবে শরিয়ত অনুযায়ী অনলাইন বিবাহ বৈধ। তবে এর জন্য নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে—

পরিচয় নিশ্চিত হওয়া: বর ও কনের পরিচয়ে কোনো রকম সন্দেহ না থাকা, যাতে প্রতারণা বা ভুয়া পরিচয়ের আশঙ্কা না থাকে। উভয় পক্ষের ব্যক্তিত্ব ও যোগ্যতা পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য হতে হবে।

ইজাব ও কবুল স্পষ্ট হওয়া: প্রস্তাব ও গ্রহণ সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার ভাষায় সম্পন্ন হতে হবে, যাতে উভয় পক্ষ সম্পূর্ণভাবে বুঝতে পারে এবং কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি না থাকে।

বিবাহ ঘোষণা করা: বিবাহ যথাযথভাবে ঘোষণা করতে হবে। কোনো গোপনীয়তা বা দ্ব্যর্থতার সুযোগ যেন না থাকে, এবং উভয় পরিবারের সদস্য বা সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি অবগত থাকেন।

বিবাহ নিবন্ধন করা: বিবাহ তাৎক্ষণিকভাবে নিবন্ধন করাতে হবে, যাতে আইনগত দিক থেকেও পূর্ণ স্বীকৃতি লাভ করে।

তবে, যেহেতু অনলাইন বিবাহে প্রতারণা, বিভ্রান্তি বা সন্দেহের সম্ভাবনা কখনো কখনো থেকে যায়, তাই অধিক সতর্কতার জন্য শ্রেয় হলো ওকালতের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করা।

এই পদ্ধতিতে—

বর ও কনে বা তাঁদের অভিভাবক কোনো বিশ্বস্ত ও যোগ্য ব্যক্তিকে ওয়াকিল (প্রতিনিধি) হিসেবে নিয়োগ করবেন।

সেই ওয়াকিল সাক্ষ্যপ্রাপ্ত দুইজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির সামনে ইজাব ও কাবুল সম্পন্ন করবে।

এভাবে সব শরয়ি শর্ত পূর্ণ হয়, আবার প্রতারণা বা বিভ্রান্তির আশঙ্কাও দূর হয়ে যায়। আর এই সম্পর্ক সমাজ ও আইন—উভয় দিক থেকেই দৃঢ় ও গ্রহণযোগ্য থাকে।

والله أعلم بالصواب
(আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন।)

——————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকহ।

✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6788

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *