দুয়া এক অত্যন্ত পবিত্র আমল। এটি হওয়া উচিত হৃদয়ের গভীরতা ও জিহ্বার সরলতার সঙ্গে একান্তভাবে স্রষ্টার সামনে নিবেদন। এটিকে যদি কৃত্রিম সমাবেশ ও প্রদর্শনের হাতিয়ার বানানো হয়, তবে দুয়ার পবিত্রতাই ক্ষুণ্ন হয়। এজন্যই সলফে সালেহীন দুয়াকে নিজেদের একান্ত ইবাদতের সবচেয়ে মূল্যবান ধন মনে করতেন এবং একে সমষ্টিগত আকারে সীমাবদ্ধ করা কিংবা প্রদর্শনের হাতিয়ার বানানো থেকে বিরত থাকতেন।
||প্রশ্ন ৬:
আমার দুর্বল ধারণা অনুযায়ী, দুয়া একটি অত্যন্ত মহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হলেও তা ফরজ নয়। আর যেসব ইবাদত নফল, তাতে শরিয়ত আমাদের জন্য প্রশস্তি রেখেছে, যেন বিভিন্ন ধরনের মানুষ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সহজে তা আদায় করতে পারে। তাহলে কি দুয়ার ক্ষেত্রেও প্রশস্তি গ্রহণ করাই উত্তম হবে না?
||উত্তর:
দুয়া অবশ্যই প্রশস্ত ও বিস্তৃত হওয়া উচিত। প্রত্যেক কাজের শুরুতে দুয়া করা মুস্তাহাব ও পছন্দনীয়। বান্দার উচিত সর্বদা তার রবের কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করা। দুয়া কোনো একটি ভাষা বা নির্দিষ্ট কিছু শব্দে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি প্রতিটি ভাষায়, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত স্বভাব, আগ্রহ ও প্রয়োজন অনুযায়ী হতে পারে। এ-ই দুয়ার আসল প্রশস্তি ও সৌন্দর্য।
যারা বিশেষ কিছু শব্দ বা নির্দিষ্ট সময়কে আবশ্যক করে তোলে, তারা আসলে দুয়ার রুহকে সংকীর্ণ করে ফেলে। অথচ দুয়ার উদ্দেশ্য হলো হৃদয়ের অবস্থা, আন্তরিকতা এবং বিনয়ী আবেদন—শুধু শব্দ বা সময়ের সীমাবদ্ধতা নয়। দুয়া এমন এক দরজা, যা সর্বদা খোলা। বান্দা যখন খুশি, যে অবস্থায় খুশি, যে ভাষায় খুশি, তার রবের সঙ্গে কথা বলতে পারে। এ-ই দুয়ার প্রকৃত রূপ এবং তার পূর্ণতা।
——————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, উপদেশ, ফিকহ।
—
✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7073