থেকেই সম্ভাবনা হিসেবে নিহিত থাকে; কুমার তা বাস্তব রূপ দেয়। পদার্থ কেবল সক্ষমতা বা প্রস্তুতি বহন করে; রূপ ছাড়া তার পূর্ণ অস্তিত্ব হয় না। আবার রূপও পদার্থ ছাড়া বাহ্যিক জগতে অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না। এভাবে পদার্থ ও রূপ একে অপরের পরিপূরক; দুয়ে মিলে কোনো বস্তুকে অস্তিত্ব দান করে।
কার্যকর কারণ ও উদ্দেশ্যগত কারণের সম্পর্ক আলোচনায় ইবনে সিনা উদ্দেশ্যগত কারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর দৃষ্টিতে কোনো কর্তা কখনোই উদ্দেশ্যহীন কাজ করে না; প্রতিটি কাজই কোনো না কোনো লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হয়। চিকিৎসক রোগীর চিকিৎসা করেন আরোগ্যের জন্য; আরোগ্যের ধারণাই তাঁর ইচ্ছা ও উদ্যোগকে সক্রিয় করে তোলে। এ কারণেই ইবনে সিনা বলেন, অর্থ ও উদ্দেশ্যের বিচারে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য সব কারণের আগে অবস্থান করে, যদিও বাস্তব প্রয়োগে তা পরে প্রকাশ পায়। এই জন্যই তিনি উদ্দেশ্যগত কারণকে ‘কারণসমূহের কারণ’ বলে অভিহিত করেন।
শেষ পর্যন্ত ইবনে সিনা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, পদার্থ, রূপ, কর্তা ও উদ্দেশ্য—এই সব কারণ কেবল সম্ভাব্য সত্তাকেই অস্তিত্বে আনে। যেহেতু সম্ভাব্য সত্তা নিজে নিজে টিকে থাকতে পারে না, তাই কারণের এই ধারাকে শেষ পর্যন্ত এমন এক সত্তায় গিয়ে থামতেই হয়, যে নিজে কোনো কার্য্যের ফল নয়। তিনিই ওয়াজিবুল-উজূদ—প্রথম কারণ এবং পরম কারণ। এভাবেই ইবনে সিনার কারণ-কার্য্যের তত্ত্ব দর্শনচিন্তাকে বিভিন্ন স্থর থেকে ঐক্যের দিকে, সম্ভাবনা থেকে অনিবার্যতার দিকে অগ্রসর করে।
অতএব বলা যায়, ইবনে সিনার কাছে কারণ ও কার্য্যের ধারণা নিছক একটি যৌক্তিক ব্যাখ্যা নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অধিবিদ্যাগত ব্যবস্থা, যা অস্তিত্বের গভীর স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে চায়। এই ব্যবস্থা মানববুদ্ধিকে খণ্ড খণ্ড দৃশ্যমান রূপ থেকে তুলে নিয়ে পরম সত্যের দিকে ধাবিত করে। এ কারণেই ইবনে সিনার কারণ-কার্য্যের তত্ত্ব আজও দার্শনিক আলোচনায় একটি উজ্জ্বল, সুদৃঢ় ও প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।
————-
ক্যাটাগরি : ফিলোসোফি, ইসলামি চিন্তাধারা,
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8288