AkramNadwi

জ্ঞানগরিমা থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র,

জ্ঞানগরিমা থাকা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, সদাচারী ও স্নেহশীল; তাঁর আচরণে লখনউর সংস্কৃতির সৌরভ এমনভাবে মিশে ছিল, যেমন ফুল থেকে সুবাস বিচ্ছিন্ন হয় না।

মাওলানা আবুল ইরফান রহ. ছিলেন ফাসাহাত ও বালাগাতের আকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর ভাষার প্রবাহ ছিল স্বচ্ছ ঝরনার মতো, যা পাহাড় থেকে নেমে আসে নির্মল স্রোতে; আর তাঁর বর্ণনার স্বচ্ছতা ছিল এমন, যেন ধুলোমুক্ত আয়না। পরবর্তীতে বহু বড় বড় সাহিত্যিক ও বক্তাকে দেখেছি, কিন্তু তাঁর মতো ভাষার সাবলীলতা ও বর্ণনার দীপ্তি আর কোথাও চোখে পড়েনি; তিনি শব্দের নয়, প্রভাবের ইমাম ছিলেন।

মাওলানা জিয়াউল হাসান রহ. সহিহ বুখারির দরস এমন গভীর মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে দিতেন, যেন এটি কেবল পাঠদান নয়, বরং একটি আমানত আদায় করছেন। একটি একটি হাদিস নিয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনো বা একাধিক দিন ব্যয় করতেন; রাবিদের জীবনচরিত, ইলাল, বর্ণনা ও অনুধাবনের বিভিন্ন দিক এমনভাবে উন্মোচিত হতো, যেন একের পর এক গুপ্তধনের দ্বার খুলে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আলোচনা দীর্ঘ হলেও তিনি তা থামাতেন না; কারণ তিনি জানতেন, এই অনুসন্ধিৎসাই জ্ঞানকে জীবন্ত রাখে।

মাওলানা শাহবাজ রহ. ছিলেন চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির এমন একজন পথপ্রদর্শক, যিনি কেবল তথ্য দিতেন না, বরং মনের গঠন করতেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের চিন্তা একটি বীজের মতো বিকশিত হতো, যা ধীরে ধীরে এক মহীরুহে পরিণত হয়, যার শিকড় গভীরে প্রোথিত, আর শাখা আকাশছোঁয়া।

সব মিলিয়ে, আমাদের শিক্ষকরা ছিলেন প্রকৃত অর্থেই শিক্ষক। তাঁরা আমাদের কেবল বইয়ের জ্ঞান দেননি; বরং জ্ঞানের প্রতি আকর্ষণ, চিন্তার আলো এবং চরিত্রের গাম্ভীর্য দান করেছেন। তাঁদের শিক্ষাদান ছিল লোহারের সেই ভাটির মতো, যেখানে লোহা উত্তপ্ত হয়ে শুধু দৃঢ়ই হয় না, বরং তার মধ্যে নমনীয়তা ও কার্যকারিতাও সৃষ্টি হয়।

জাফর ভাইয়ের জীবন এ সত্যের উজ্জ্বল প্রমাণ যে, শিক্ষার্থীদের পথ ভিন্ন হতে পারে—কেউ কথোপকথনের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করে, আর কেউ নীরবতার গভীরে ডুব দিয়ে; কিন্তু নিষ্ঠা, অবিচলতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম শেষ পর্যন্ত মানুষকে চিন্তার পরিপক্বতা ও জ্ঞানের মর্যাদার উচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়।

———-

ক্যাটাগরি : তালিম, ইসলামি চিন্তাধারা, সিরাত,

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8763

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *