কিন্তু তুরকী—তিনি শিখেছেন নাহু, সরফ ও ই’রাব এমনভাবে, যেন তার জিহ্বা খাপ থেকে বের করা তলোয়ার—যা না তোতলায়, না দ্বিধা করে। তিনি পাঠ করেন মূল পাঠ ঠিক যেমনটি নাজিল হয়েছে, বুঝেন লেখকের উদ্দেশ্যমতো, মিলিয়ে নেন সাদৃশ্যগুলো যেমন দক্ষ জহুরী মুক্তো আর কাচের পার্থক্য বোঝেন। তিনি জানেন ইসনাদের উচ্চ ও নিম্ন স্তর, প্রসিদ্ধ ও অপ্রচলিত বর্ণনা। তার সঙ্গে বসলে মনে হয়, আপনি যেন মুহূর্তেই ফিরে গেছেন সেই যুগে—যখন কুফা, বসরা ও বাগদাদে হাদিসের আসর বসত, আর শোনা যেত রিকাবের ওপর মুহাদ্দিসদের কলমের আঁচড়, আধুনিক ফটোকপির কাগজের খসখস শব্দ নয়।
এই হলো তুরকী আল-ফুজলী—যিনি একসঙ্গে মিলিয়েছেন ভাষার সৌন্দর্য ও ইসনাদের নিখুঁততা, কথার ফুসহা আর অনুসন্ধানের দৃঢ়তা, ভাষার আর হাদিসের প্রাণ। তিনি তার যুগে হয়ে উঠেছেন আরবি ঘোড়ার কপালের উজ্জ্বল দাগের মতো, দীর্ঘ রাতের অন্ধকারে প্রদীপের মতো—এবং প্রমাণ যে, এই উম্মতে কল্যাণ কখনো শেষ হবে না, যতক্ষণ অন্তত একজন তুরকীর মতো মানুষ থাকবে। তিনি জানেন, হাদিস একটি আমানত, আরবি তার পাত্র; যে পাত্র নষ্ট করল, সে তার ভেতরের সোনার চেয়েও মূল্যবান বস্তু ফেলে দিল।
শায়খ ও ইসনাদ নিয়ে কথা বলতে বলতে তার ঠোঁটে যে হাসি ফুটে ওঠে, তা যেন দীর্ঘ বিরতির পর দূরে দেখা বিদ্যুতের ঝলকানি।
তিনি তরুণ, মার্জিত চরিত্রের, নরম স্বভাবের, চলাফেরায় সবার সঙ্গে সদ্ভাবপূর্ণ। তার সৌন্দর্য ও গুণাবলী এতই সত্যনিষ্ঠ যে তা আমার এবং দেখনেওয়ালাদের জন্য হয়ে ওঠে এক মুগ্ধতা। তিনি আপনাকে প্রায়ই আগে সম্ভাষণ জানাবেন, সাক্ষাতে সম্মান দেখাবেন। তার মুখশ্রী হাসিমুখে উজ্জ্বল, ছাত্রদের জন্য আনন্দময়, আর তার আচরণে প্রতিফলিত হয় তার পূর্বপুরুষদের মহত্ত্ব।
———-
ক্যাটাগরি : স্মৃতিচারণ, হাদিস, লুগাহ।
—
✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6735