AkramNadwi

এর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। শিশুরা যারা নিরাপদ আশ্রয়ের

এর পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। শিশুরা যারা নিরাপদ আশ্রয়ের স্বাদ পায়নি, তারা বড় হয়েছে উদ্বেগ নিয়ে, আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগে, আবেগের অস্থিরতায় জর্জরিত হয়ে। দৃঢ় চরিত্র গড়ে ওঠার বদলে তারা লালন করেছে হিংসা ও ঈর্ষা, যা বড় বয়সে রূপ নিয়েছে রাগ, নিঃসঙ্গতা ও সম্পর্কের ভাঙনে। আর তাদের সমাজ ভোগ করেছে এর ফল—সহিংসতা, সন্দেহ ও ছিন্ন-বিচ্ছিন্নতা।

এ বিশৃঙ্খলা শুধু সামাজিক নয়; এটি নৈতিক ও আত্মিক বিপর্যয়ও বটে। আধুনিক সভ্যতা অনেক দিকেই ফিতরার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, সৃষ্টিকর্তার প্রজ্ঞাকে উপেক্ষা করেছে। আল্লাহ বলেছেন:

“كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى، أَن رَّآهُ اسْتَغْنَى، إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ الرُّجْعَى”
কখনো নয়, নিশ্চয় মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে।কেননা সে নিজকে মনে করে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তোমার রবের নিকট প্রত্যাবর্তন সুনিশ্চিত।(সূরা আল-আলাক ৬-৮)

অর্থাৎ মানুষ যখন অহংকারে ভরে ওঠে, ভাবে যে সে কারো মুখাপেক্ষী নয়—তখনই সে সীমা লঙ্ঘন করে এবং ধ্বংসের পথে যায়।

এখানে ঈমানই সামনে আসে চিকিৎসা ও দিশারি হয়ে।

এটি মূল্যবোধকে পুনর্সজ্জিত করে, এবং পুরুষ-নারী উভয়কেই স্মরণ করিয়ে দেয়—তাদের বিবাহ কোনো আধিপত্যের লড়াই নয়, বরং এটি যৌথ দায়িত্বের অঙ্গীকার। ঈমান পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকে ফিরিয়ে দেয় তাদের মর্যাদা—এমন কোনো অতীতের নিদর্শন হিসেবে নয়, বরং সভ্যতার টিকে থাকার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে। ধর্মই পরিবারের প্রকৃত অর্থকে রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতের পথকে আলোকিত করে।

মানবজাতি এই অরাজকতা থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন:

প্রথমত: যৌন সম্পর্ককে তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরিয়ে আনা। এর মানে আনন্দকে নিষিদ্ধ করা নয়, বরং তাকে তার প্রকৃত লক্ষ্য—জীবনের ধারাবাহিকতা ও তার যত্ন—এর সাথে যুক্ত করা।

দ্বিতীয়ত: পরিবারকে তার কেন্দ্রীয় অবস্থান ফিরিয়ে দেওয়া, এবং সেইসব আইন ও নীতিমালা সংস্কার করা যা পরিবারকে দুর্বল করে দেয়। পরিবারকে সহায়তা করা উচিত, শাস্তি নয়—যদি মা-বাবার কেউ, সাধারণত মা, সন্তান প্রতিপালনে পুরোপুরি নিজেকে নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত নেন।

তৃতীয়ত: আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাকে পুনর্জাগ্রত করা, যাতে তা অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও ভোগবাদী প্রবণতাকে প্রতিহত করতে পারে—যে প্রবণতা সম্পর্কগুলোকে বানায় লেনদেনের মতো, আর শিশুদের ফেলে দেয় প্রান্তিকতায়।

ধর্ম, পরিবার ও ভবিষ্যৎ—এগুলো একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকা সূতো, যা মিলে সভ্যতার বুনন গড়ে। ধর্ম দুর্বল হলে পরিবার দুর্বল হয়, পরিবার দুর্বল হলে ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়। আগামী দিনের নিশ্চিন্ত, দৃঢ় ও ভালোবাসায় ভরা জীবন লাভের একমাত্র পথ হলো ফিতরায় ফিরে যাওয়া। তবে তা হবে না অন্ধ অনুকরণ, বরং হবে পরিণত ও সজ্ঞান প্রত্যাবর্তন।

কারণ পরিবার অতীতের কোনো নিদর্শন নয়; পরিবারই হলো ভবিষ্যতের গর্ভ। আর যে এই গর্ভকে সম্মান করতে জানে না, সে কোনো সভ্যতাই নির্মাণ করতে পারবে না, যা টিকে থাকার যোগ্য।

————–

ক্যাটাগরি : পারিবারিক জীবন, ইসলামি আলোচনা, আখলাক।
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—-
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6867

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *