AkramNadwi

এই হাদিস প্রমাণ করে—নিরাপত্তা থাকলে নারী একাকী ভ্র

এই হাদিস প্রমাণ করে—নিরাপত্তা থাকলে নারী একাকী ভ্রমণ করতে পারে।

অতীতে সৌদি আরব নারীদের মাহরাম ছাড়া উমরাহ ভিসা দিত না। অনেকে এটিকে নারীর মর্যাদার পরিপন্থী মনে করতেন। বর্তমানে এ শর্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন নারীরা মাহরাম ছাড়া সৌদি আরবে যেতে পারে, এমনকি হারামাইনেও। এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তবে এখানেও সতর্কতা জরুরি। এখনো গণপরিবহন, হোটেল বা একাকী ভ্রমণে নারীদের হয়রানির খবর পাওয়া যায়। তাই শুধুমাত্র আইন অনুমতি দিয়েছে বলে নির্ভর করে নেওয়া উচিত নয়, বরং নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ্‌ নারীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা—দুটোকেই রক্ষা করে। একটির জন্য আরেকটি পুরোপুরি বিসর্জন দেওয়া ইসলামের পথ নয়। তাই আমার পরামর্শ হলো: সম্ভব হলে নারীরা স্বামী বা মাহরামের সাথে ভ্রমণ করুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত নারীগোষ্ঠীর সাথে ভ্রমণ করুন, এবং সেই দলে অন্তত একজন নারীর মাহরাম যেন থাকেন।

——————–

📌 রেফারেন্স :
🔶 প্রথমত – ইমাম মালিক ও শাফেয়ি রাহিমাহুল্লাহ,

ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ি দুজনেই বলেছেন যে, যদি রাস্তা নিরাপদ হয়, তবে নারী মাহরাম ছাড়া অন্য নারীদের একটি নির্ভরযোগ্য দলে সঙ্গী হয়ে হজ করতে পারে।

ইমাম নববী (রহ.) শরহে সহীহ মুসলিম-এ এই মতকে উদ্ধৃত করেছেন:

> “মালিক, শাফেয়ি এবং আউযাঈ বলেছেন—নারীরা মাহরাম ছাড়াও অন্য নারীদের একটি বিশ্বস্ত দলের সাথে হজ করতে পারে।”

(শরহুন নববী আ’লা সহিহ মুসলিম ৯/১০৪)

🔶 দ্বিতীয়ত – ইমাম আহমদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি রায়

ইমাম আহমদ থেকে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে। একটি হলো কড়াভাবে মাহরাম শর্ত আরোপ, আরেকটি রায়ে তিনি অনুমতি দিয়েছেন—যদি নারী নিরাপদ কাফেলায় থাকে, তবে হজ করতে যেতে পারে।

(আল মুগনি- ইবনে কুদামাহ ৩/২২১)

🔶 তৃতীয়ত – সালাফদের মতামত

হাদিসে আয়েশা রা.-এর উক্তি পাওয়া যায়:
যেমন – “ليس كل النساء يجدن محرما”
“প্রত্যেক নারীর তো মাহরাম পাওয়া যায় না।”
(উদ্ধৃত: মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ৪/৩৪৮)
– এটিকে অনেকে দলিল হিসেবে নিয়েছেন যে, বাস্তবতার কারণে নির্ভরযোগ্য কাফেলায় মাহরামবিহীন নারীর হজ বৈধ।

🔶 চতুর্থত – আধুনিক ফিকহি রেফারেন্স

ইবনে হাজার আল-হাইতামী (শাফেয়ি ফকিহ) বলেন:
“হজ ফরজ হয়ে গেলে নারীর জন্য মাহরাম ছাড়া যাওয়া বৈধ, যদি সে বিশ্বস্ত নারীগোষ্ঠী বা নিরাপদ কাফেলায় থাকে।”
(তোহফাতুল মুহতাজ, ৪/২৭)

কারদাবি ও সমকালীন ফকিহরাও এ মতের উপর ফতোয়া দিয়েছেন—যে, নিরাপত্তা থাকলে মাহরাম ছাড়া নারীর হজ গ্রহণযোগ্য।


📌 সারসংক্ষেপ:

হানাফি মাযহাব সাধারণভাবে মাহরাম শর্তকে অপরিহার্য বলেছেন।

মালিকি ও শাফেয়ি মাযহাব নিরাপত্তা ও বিশ্বস্ত কাফেলার শর্তে মাহরাম ছাড়াও হজকে বৈধ বলেছেন।

সালাফ থেকে এ মতের ইঙ্গিতও পাওয়া যায় (যেমন আয়েশা রা.-এর উক্তি)।

————-
ক্যাটাগরি : ফিকহ, হজ্জ।
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—-
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6854

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *