AkramNadwi

আমি বললাম: “হুজুর! এটিই তো নবুয়তের সঙ্গে শিরক করার

আমি বললাম:
“হুজুর! এটিই তো নবুয়তের সঙ্গে শিরক করার মতো কথা।”

তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন:
“তুমি তোমার কথা খুলে বলো।”

আমি বললাম:
“নবী করীম ﷺ–এর জন্য কি সাহাবায়ে কেরামের অনুসরণ করা ফরজ ছিল?”

তিনি বললেন:
“তুমি অদ্ভুত প্রশ্ন করছ! নবী ﷺ তো নিজেই নবী ছিলেন। বরং সাহাবাদের ওপরই তাঁর অনুসরণ করা ফরজ ছিল।”

আমি জিজ্ঞেস করলাম:
“তাহলে কি তাঁর ওপর খোলাফায়ে রাশেদীনের আনুগত্য ফরজ ছিল? তাঁর ওপর কি উমর রা.-এর, কিংবা আবু বকর রা.-এর অনুসরণ করা আবশ্যক ছিল?”

তিনি বললেন:
“কখনোই না।”

আমি বললাম:
“তাহলে যদি কেউ এ বিশ্বাস করে, তার ব্যাপারে আপনার ফতোয়া কী হবে?”

তিনি বললেন:
“এটা তো স্পষ্টতই নবুয়তের সঙ্গে শিরক, এমন ব্যক্তিকে কাফের বলতেও দ্বিধা নেই।”

আমি বললাম:
“হুজুর! এটাই তো আমার আসল বক্তব্য। আপনি যখন কোনো নবী নন এমন কাউকে সত্যের মানদণ্ড বানান, তখন আসলে আপনি নবুয়তের সঙ্গে শিরক করেন।

আমি আপনার মতো মুফতি নই, তাই আপনাকে কাফের বলছি না। তবে এটুকু বলছি যে, আপনি ‘মানদণ্ড’ শব্দের প্রকৃত অর্থ জানেন না, আর আপনার এই বক্তব্য কতটা ভয়ংকর, তাও আপনি উপলব্ধি করেন না।”

তিনি বললেন:
“মিয়াঁ! আজ তো রক্ষা পেলে, কিন্তু কাল আমি এমন ব্যবস্থা করব যে তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছ থেকে আলাদা করেই ছাড়ব।”

আমি বললাম:
“আপনাকে অভিনন্দন! ‘يُفَرِّقُونَ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ’— যারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটায়—এর মহৎ দায়িত্ব আপনি সুন্দরভাবে পালন করছেন।”

এই বাক্য আমার মুখ থেকে বেরোতেই, হঠাৎই সেই অলৌকিক গুণাবলি সম্পন্ন মুফতি সাহেব আমার চোখের আড়াল হয়ে গেলেন।

——————–
ক্যাটাগরি : সমালোচনা, ইসলামি আলোচনা।
—-
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—-
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6863

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *