https://t.me/DrAkramNadwi/2910
بسم الله الرحمن الرحيم.
❝
তরিকতের পথিকরা ক্ববয ও বস্ত – (قبض وبسط : সংকোচ ও সম্প্রসারণ) , হুজুন ও তরব – (حزن و طرب : দুঃখ ও আনন্দ) , হাইবত ও উনস – (هيبة و انس : শ্রদ্ধা ও মিলন) , সকর ও সাহু – (سكر و صحو : মত্ততা ও জাগরণ) , যওক ও শরব – (ذوق و شرب : অনুভূতি ও পান) , মাহু ও ইসবাদ – (محو و اثبات : বিলীনতা ও প্রতিষ্ঠা), তালভিন ও তামকিন – (تلوين و تمكين : পরিবর্তন ও ক্ষমতা) ইত্যাদি অবস্থাগুলোর আলোচনা উপভোগ করে থাকেন এবং এসব অবস্থার পরিবর্তনকে নিজেদের লক্ষ্য মনে করেন। কত অল্প ধারণার মানুষ তারা, যারা এই শুরুতেই যন্ত্রণাকে নির্মল সুরার মতো ভেবে নেয়! যারা এক-দুই চুমুক পান করে নেশাগ্রস্ত হয়ে নৃত্য ও গান শুরু করে দেয়! শিকারি বাজপাখির জন্য কাকের সঙ্গ কত ভারী! কে এই চড়ুই ও কবুতরকে বলবে যে পথিকের প্রতিটি মুহূর্তই সময় এবং স্থান থেকে মুক্ত?
“সালিকের প্রতিটি মুহূর্তে স্থান ও কাল অতিক্রান্ত। মুসলমানের গন্তব্য আকাশের নীলিমার ওপারে।”
গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার পথিকরা নির্জনতা ও একাকীত্ব, নীরবতা ও সংযম, আত্মমগ্নতা ও ধ্যান, সংকল্প ও সন্তুষ্টি, স্বাধীনতা ও বীরত্ব ইত্যাদি অবস্থানের ভ্রমণে সময় কাটান। নতুন কোনো অবস্থানে পৌঁছালে তারা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং নিজেদের এই সাফল্যের জন্য একে অপরকে অভিনন্দন জানান। এই খাঁচাবন্দি মানুষগুলো কী বুঝবে যে নীল আকাশে উড়ার কী আনন্দ! তারা কীভাবে জানবে সেই অনন্ত মহাসাগরের কথা, যার প্রতিটি ফোঁটাই এক অসীম সাগর! তাদের কি ধারণা সেই পথিকদের সম্পর্কে, যাদের কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই?
“মুসলমানের গন্তব্য আকাশের নীলিমার ওপারে।”
ওলিদের গুণাবলীর অভিভাবকরা অলি, আবদাল, আখিয়ার, আওতাদ, আকতাব, কুতবুল আকতাব এবং গাউসের আলোচনা শুনে আনন্দিত হন। হায়! তাদের পৃথিবী কত সংকীর্ণ! কত কম তাদের উচ্চাশা! তাদের ওপর চিরন্তন সত্যের রহস্য উদঘাটিত হয়নি। এই সত্যটি ক্বইস ও ফরহাদের কাছে স্পষ্ট ছিল। হায়! তারা বায়েজিদ, যুন-নুন, শিবলী ও জুনাইদের অবস্থানেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলেন। তাদের কাছে সিদ্দিক ও ফারুকের অবস্থানের অর্থ উন্মোচিত হয়নি। তারা পর্দার পেছন থেকে দেখেছেন এবং নিজেদের সত্যসন্ধানী বলে ভেবেছেন। হায়, তাদের প্রতি আফসোস যারা পথচলা ছেড়ে গন্তব্যকে গ্রহণ করেছে, যারা অসীম সমুদ্র ছেড়ে তীরে থেমে গেছে, যারা উটের সাজসজ্জায় সন্তুষ্ট হয়েছে এবং সেটিকেই তাদের লায়লার প্রতিস্থাপন ভেবেছে।
“পর্দা সরাও, যাতে জানা যায়
তোমাদের প্রিয়জন অন্য কাউকে পূজা করছে।”
হে আদম সন্তান! এসো, তোমাকে সেই অবস্থানের কথা বলি যা অবস্থা ও অবস্থানের পরেও রয়েছে। এটি ছিল এক স্পষ্ট বাস্তবতা, কিন্তু তোমার উদাসীনতা এটিকে এক গোপন রহস্যে পরিণত করেছে। এসো, আমি এই গোপন বিষয়টি তোমাকে জানাই। কাছে এসো, আমি তোমার কানে ফিসফিস করে বলি, সেই কথাটি যা তুমি ভুলে গেছ, যেটি তোমার গাফিলতি এক ধাঁধায় পরিণত করেছে। সেই গোপন রহস্য, সেই সত্যের সত্য, সেই সত্যের নির্যাস কী? সেটি কোন আনন্দ, যা ফেরেশতাদের মোহিত করেছে? সেটি সমস্ত অবস্থা ছাড়িয়ে গেছে, সমস্ত অবস্থানের ওপরে, সমস্ত অলৌকিকতার ওপরে। সেটি সেই উপহার যা মহান আরশের প্রভু তোমার জন্য বিশেষভাবে দান করেছেন। সেটি হলো ইবাদতের উপহার, দাসত্বের অলৌকিকতা এবং বান্দার উপহার।
হে আদম সন্তান! সাহস করো, হিম্মত থাকলে সেই অবস্থান খুঁজে নাও, যার মূল আরশে মুত্তাসিল। এটি হলো রূহুল আমিনের অবস্থান, নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের অবস্থান, ইবরাহিম খলিলুল্লাহ, মুসা কালিমুল্লাহ, মিরাজপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সৎ বান্দাদের অবস্থান। এটি ভাগ্যবানদের জন্য সংরক্ষিত এক বিশেষ অবস্থান। এটি সস্তা নয়, এটি খানকাহবাসীদের দৃষ্টির বাইরে। এটি নির্জনবাসীদের নাগালের অনেক দূরে। এটি পারিভাষিক ও দাবিদারদের ধোঁকা থেকে পৃথক। এটি ধন্য মানুষের অবস্থান:
“যার ভাগ্যে মুক্তোর শামুকের কোল নেই,
সে কখনো মুক্তো হয়ে উঠতে পারে না।”
সকল জমিন, সব সমুদ্র ও নদী, পাহাড় ও মরুভূমি, গাছপালা ও উদ্ভিদ, প্রাণী ও জন্তু, এমনকি মানব ও জিন সবাই সাক্ষ্য দেয় যে এক মুহূর্তের ইবাদত তাদের সকলের চেয়ে প্রিয়। একবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা পৃথিবী ও আসমানের মধ্যবর্তী স্থানের চেয়ে বেশি মূল্যবান। একবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ সেই মহান মিজানকে পূর্ণ করে দেয়, যার মহত্ত্বের কোনো সীমা নেই। আকাশ সাক্ষ্য দেয়, এবং সাক্ষ্য দেয় সূর্য-চন্দ্র, নক্ষত্র-গ্রহ যে তোমার একবার দাঁড়ানো, একবার রুকু, এবং একবার সিজদা তাদের সকলের চেয়ে মূল্যবান।
“সূর্য-চন্দ্রের হিসাব করে ফকির,
সে সময়ের বাহন নয়, সময়ের আরোহী।”
আরশে মুআল্লা এবং তার চারপাশে যারা রয়েছে তারা তাসবিহ পাঠে ব্যস্ত। তারা গেয়ে চলেছে রব্বুল আলামিনের জিকির, যা সোলায়মানের রাজ্যের চেয়েও বড়। তাদের সামনে সঞ্জার ও তুগরিলের ঐশ্বর্য তুচ্ছ। জুলকারনাইনের পূর্ব-পশ্চিম শুধুই একটি বিন্দু।
“ত্রিশ বছর পর এ বিষয়টি খাকানির কাছে পরিষ্কার হলো
যে এক মুহূর্ত আল্লাহর সাথে থাকা সোলায়মানের রাজত্বের চেয়েও উত্তম।”
তাই, হে আদম সন্তান! ভিক্ষুকের পথ পরিত্যাগ করো। গোলামের চোখে চেয়ে থাকা থেকে দূরে সরে যাও। তরিকত ও হাকিকতের সংকীর্ণ পথ থেকে বের হয়ে যাও। পরিভাষার জটিল উপত্যকাগুলোর দিকে দৃষ্টি ফেরাও। অবস্থাগুলো পেরিয়ে যাও। অবস্থানের সীমা ছাড়িয়ে যাও। আবদাল ও আকতাবকে বিদায় জানাও। মুরাকাবা ও নেশা থেকে ওপরে উঠো। উষ্ণ হৃদয় তৈরি করো। ইবাদতকে তোমার চিহ্ন বানাও। দাসত্বে দৃঢ় হও। দাঁড়াও, রুকু করো, সিজদা করো, এবং তাসবিহ ও হামদের অভ্যাস করো। জেনে রাখো যে যে এই অবস্থান পেয়েছে, সে-ই সত্যিকারের অবস্থান অর্জন করেছে। সে জিব্রাইল ও ইসরাফিলের সঙ্গী। সে রাতের উপাসকদের সাথী।
“একই আকাশে কাক ও বাজ পাখি উড়ে,
কিন্তু কাকের জগৎ আলাদা, আর বাজপাখির জগৎ আলাদা।”
————
# উপদেশ # শিক্ষা
লিখেছেন :
মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।