AkramNadwi

اللهم لك العتبى حتى ترضى

https://t.me/DrAkramNadwi/2266

بسم الله الرحمن الرحيم

(হে আল্লাহ, তোমারই প্রতি সমর্পণ, যতক্ষণ না তুমি সন্তুষ্ট হও)।
———–

আমার মন আমাকে বলল, যখন আমি ফজরের নামাজের পর শয্যাশায়ী ছিলাম: নেককার ব্যক্তিদের বিরাগভাজন হওয়া বা তাদের বিমুখতা কি আমার জন্য কষ্টদায়ক নয়?
| আমি বললাম: তুমি সত্য বলেছ, কারণ নেককাররা আল্লাহর নির্বাচিত বান্দা, তাদের ভালোবাসা ও আনুগত্য আবশ্যক, আল্লাহ তাদের সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট হন এবং তাদের অসন্তুষ্টিতে অসন্তুষ্ট হন।

| সে বলল: যদি তারা আমাকে ভর্ত্সনা করে বা রাগান্বিত হয়, তবে উপায় কী?
| আমি বললাম: তুমি ধৈর্য ও কোমলতার সঙ্গে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং তাদের মন গলানোর চেষ্টা করবে।
| সে বলল: তারা যদি ক্রোধে অটল থাকে এবং সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়?
| আমি বললাম: তবে তাদের থেকে বিমুখ হয়ে যাও, তবে বিদ্বেষ বা শত্রুতার কারণে নয়।
| সে বলল: আমি তাদের থেকে বিচ্ছিন্নতা বা বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারি না।
| আমি বললাম: এটি একপ্রকার অক্ষমতা, এর কাছে আত্মসমর্পণ করো না, এটি তোমাকে তোমার ফরজ ও কর্ম থেকে বিরত রাখবে।

| সে বলল: আল্লাহর অসন্তুষ্টির মধ্যে থেকে ফরজ পালনে কী উপকার?
| আমি বললাম: তোমার রোগ আমি বুঝতে পেরেছি, এটি এক ভয়ানক রোগ। তুমি কি মানুষের অসন্তুষ্টিকে আল্লাহর অসন্তুষ্টির সমতুল্য ভাবছো ?
| সে বলল: তারা সাধারণ লোক বা জনতা নয়, বরং উত্তম ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিরা।
| আমি বললাম: আল্লাহর দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান, সুতরাং বান্দার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে রবের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়ো না।
সতর্ক হও, দুঃখে আত্মভোলা ও মরীচিকার পেছনে ছুটে যেয়ো না। তোমার করণীয় হল সরল-সোজা দ্বীনে অবিচল থাকা।

| আমি বললাম: জেনে রেখো, মূল লক্ষ্য আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা।
যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির সঙ্গে মানুষের সন্তুষ্টি মিলে যায়, তবে সেটিই উত্তম লক্ষ্য।
কিন্তু যদি তাদের সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফিল হয়ে যাও বা তাঁকে ভুলে যাও, তবে তাদের ছেড়ে দাও।
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পরীক্ষা। সুতরাং আল্লাহর নৈকট্যই তোমার সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং এটিই তোমার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।

তুমি কি দেখোনি যে, মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর ভাই হারূন (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন, অথচ তারা আল্লাহর সম্মানিত রাসূলদের অন্তর্ভুক্ত?
তুমি কি জানো না যে, সাহাবিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পারস্পরিক মতবিরোধ করেছেন, বিতর্ক করেছেন, এমনকি একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধও করেছেন, অথচ তারা নবীদের পর সর্বোত্তম মানুষ?
তুমি কি স্মরণ করো না আম্মার ইবন ইয়াসির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি:

“নিশ্চয়ই আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বসরার পথে রওনা হয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি দুনিয়াতেও তোমাদের নবীর (সা.) স্ত্রী এবং আখিরাতেও। তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদের পরীক্ষা করছেন—তোমরা তাঁর (নবী সা. এর) আনুগত্য করো, নাকি তাঁর (আয়েশা রা. এর)?”

তুমি কি পড়োনি যে, ইমরান ইবন তালহা যখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এলেন, তখন তিনি তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বললেন:

“আমি আশা করি, আল্লাহ আমাকে ও তোমার বাবাকে সেই লোকদের অন্তর্ভুক্ত করবেন, যাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে—’এবং আমরা তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা পরস্পর ভাই হয়ে মুখোমুখি আসনে বসবে’।”

আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“জান্নাতের অধিবাসীরা দুনিয়ায় থাকা অবস্থায় অন্তরে যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করত, তা সঙ্গী করেই জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু যখন তারা পরস্পর একত্রিত হবে ও মুখোমুখি হবে, তখন আল্লাহ তাদের অন্তর থেকে সকল বিদ্বেষ মুছে দেবেন।” এরপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
“ونزعنا ما في صدورهم من غل”
‘এবং আমি তাদের অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে দেব’।” (সুরা হিজর: ৪৭)

সুতরাং জেনে রাখো, সরল পথ হলো—আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা।
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে, তাদেরকে আপন করে নেওয়া, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য—মানুষের থেকে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা আশা না করে।
এই সোজা পথে দৃঢ়ভাবে অবিচল থাকো, স্থিরতা ও সংযম বজায় রেখে চলো,
যতক্ষণ না তোমার কাছে মৃত্যু এসে পৌঁছে।

——————

মূল: ড. আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড, ইউকে।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *